নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের অভয়নগরে সরকারি গুদামের হিসাবের সঙ্গে মজুদের মিল না থাকায় ৪২০ দশমিক ২ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার গায়েবের ঘটনা ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় সার পরিবহনের দায়িত্বে থাকা নিবন্ধিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে ভৈরব নদীর তীরবর্তী শংকরপাশা খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ অনিয়ম শনাক্ত করেন অভয়নগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর আনসারী।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিসিআইসি (BCIC) নিবন্ধিত সার পরিবহনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স টোটাল শিপিং এজেন্সির খুলনার গুদাম থেকে সরকারি সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পায় প্রশাসন। এর ভিত্তিতে শংকরপাশা খেয়াঘাটসংলগ্ন গুদামে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় সরকারি হিসাবের সঙ্গে গুদামে থাকা সার মজুদের হিসাব মিলিয়ে দেখা হয়। এতে দেখা যায়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা প্রয়োজনীয় চালান ছাড়াই গুদাম থেকে ৪২০ দশমিক ২ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ সময় গুদামে দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খুলনা শাখার ইনচার্জ মো. আ. মজিদ (৩৩)-কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তিনি সার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি এবং সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি।
পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর আনসারী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর আনসারী বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারসাজি বরদাশত করা হবে না। সরকারি সার পাচার বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্যে সার পান এবং বাজারে সারের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকেরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি সার নিয়ে অনিয়ম ও অবৈধ মজুদ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

