বেনাপোল প্রতিনিধি:যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্যবোঝাই তিনটি ট্রাক বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই শেড ইনচার্জকে ক্লোজ করার অভিযোগ উঠেছে। তবে অনুসন্ধানে ওই অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
জানা গেছে, ২৯ নম্বর শেডে গত ৫ ও ৮ সেপ্টেম্বর পৃথক দুটি পণ্য চালান আসে। এর মধ্যে ৫ সেপ্টেম্বর মেসার্স সাদীয়া এন্টারপ্রাইজের আমদানিকৃত ৪৫৫ প্যাকেজ সিন্থেটিক ফেব্রিক্স বন্দরে আসে। চালানটির ম্যানিফেস্ট নম্বর ৫৪৩৩৮ এবং তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। বিল অব এন্ট্রি নম্বর ৬০৬১৪, তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এ চালানের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ৮ সেপ্টেম্বর রাতে চালানটি বৈধ প্রক্রিয়ায় ডেলিভারি দেওয়া হয়। চালানটির খালাস মূল্য ছিল ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪৫ টাকা। বন্দর মাশুল বাবদও নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করা হয়।
পরে ওই চালানের পণ্য যশোর ট-১১৩১৩৩, ঢাকা মেট্রো-ট-২০৮৩৪৯ এবং ঢাকা মেট্রো-ট-৭৪৭১ নম্বর তিনটি ট্রাকে করে বন্দর থেকে বের হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট চালান ও গেটপাসের আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন করা হয় বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ৮ সেপ্টেম্বর একই শেডে ‘সানজিদা ইন্টারন্যাশনাল’ নামের আরেক আমদানিকারকের ২২ হাজার ৪ কেজি বা ৪৪৪ প্যাকেজ সিন্থেটিক ফেব্রিক্স আসে। এ চালানের ম্যানিফেস্ট নম্বর ৫৪৮১১। এই চালানের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টও ছিল প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল।
দুটি চালানই প্রায় একই ধরনের হওয়ায় একটি চালানের তথ্যের সঙ্গে অন্যটির তথ্য গুলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, রাতের আঁধারে ২৯ নম্বর শেড থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ৪৪৪ প্যাকেজ ভারতীয় পণ্যবোঝাই তিনটি ট্রাক বের হয়ে গেছে।
তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৪৪৪ প্যাকেজের চালানটি তখনও ২৯ নম্বর শেডে মজুত ছিল। বন্দর থেকে বের হওয়া তিনটি ট্রাকে নেওয়া পণ্য ছিল ৫ সেপ্টেম্বর বন্দরে আসা ৪৫৫ প্যাকেজের বৈধ চালান।
শেডের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সফিকুল ইসলাম ও রিপন দাস জানান, ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। যথাযথভাবে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের আগেই দুই শেড ইনচার্জকে ক্লোজ করা হয়েছে বলেও তারা জানান।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে দুইজনকে ক্লোজ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তারা অব্যাহতি পাবেন।
অন্যদিকে, ওই শেডে দায়িত্ব পালন করা কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) তরিকুল ও সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই ধরনের দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। তাদের শুধু জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগে দুই শেড ইনচার্জকে ক্লোজ করার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসংগত ছিল। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

