HomeTopভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান আন্দোলনকারীরা, ৫ অক্টোবর পদযাত্রা

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান আন্দোলনকারীরা, ৫ অক্টোবর পদযাত্রা

যশোর প্রতিনিধি:ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঘী পূর্ণিমার আগেই কার্যকর টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বা জোয়ারাধার চালুর দাবি জানিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। একই সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল পুনর্খনন ও প্রশস্তকরণসহ পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির যশোর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের অন্যতম নেতা শেখর বিশ্বাস।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত জুলাইয়ের ভারী বৃষ্টিতে যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার একাংশের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লাখো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ফসলি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, শ্মশান ও কবরস্থান পানিতে তলিয়ে থাকায় ওই অঞ্চলে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেন, বর্তমানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কারের কাজ চলছে। তবে ভবদহের স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান সমাধান টিআরএম চালুর বিষয়টি এখনও ঝুলে আছে। তাদের দাবি, টিআরএম ছাড়া শুধু নদী খনন করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই নদীতে পলি জমে আবারও নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দুই বছর আগে আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের সিদ্ধান্ত, টেন্ডার ও অর্থ বরাদ্দ হলেও জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম এখনও সম্পন্ন হয়নি। পাশাপাশি আইডব্লিউএমের (ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং) প্রস্তাবিত স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা বাস্তবায়নে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন নেতারা।

সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে ভবদহের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে তাকে এলাকা পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায়। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাঘী পূর্ণিমার আগেই কার্যকর টিআরএম বা জোয়ারাধার চালু করা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল পুনর্খনন ও প্রশস্তকরণ, ভবদহের নদী-খাল থেকে কচুরিপানা, নেট-পাটা, বাঁশ ও মাটির বাঁধ অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর নওয়াপাড়ায় সংগ্রাম কমিটির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা।

এ ছাড়া দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে কৃষিজমিতে ফসল আবাদে সুযোগ তৈরি করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সেনাবাহিনীর প্রতি কয়েকটি জরুরি প্রতিবন্ধকতা অপসারণের দাবি জানানো হয়।

এসবের মধ্যে রয়েছে পাচাকড়ি-রাজবংশীপাড়ার পাশের বাঁধ অপসারণ, টেকার বেইলি ব্রিজ ও বন্ধ মূল টেকা ব্রিজের নিচে এলজিইডির নির্মিত মাটির বাঁধ সরানো, ভবদহের ২১ গেটের সামনের লোহার বেড়া অপসারণ বা দুই পাশ থেকে অন্তত ১০-১২ হাত কেটে দেওয়া, ভবদহের ৯ গেটের উৎসমুখ এবং ভবদহ কলেজের পাশের কাঠের ব্রিজের নিচের অংশ কেটে পানি চলাচলের পথ তৈরি করা।

এ ছাড়া কপালিয়া ব্রিজের সমস্যাযুক্ত পাশ কেটে সচল করা, কপালিয়া বাজারের পাশের বাঁধ অপসারণ, শোলগাতি ব্রিজের নিচের পাকা ঢালাই সরানো এবং টেকা ব্রিজ থেকে অবশিষ্ট প্রায় চার কিলোমিটার অংশে ভাসমান স্কেভেটর দিয়ে জরুরি খনন শুরুর দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’ উপলক্ষে অভয়নগর উপজেলা চত্বর থেকে আমডাঙ্গা খাল পর্যন্ত পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, সদস্য শিবপদ বিশ্বাস, সুকেন্দু বিশ্বাস, রাজু আহম্মেদ, বাসন্তী মণ্ডল, সনঞ্জয় বৈরাগী, ভগীরত হালদার, আনন্দ বাবু, আব্দুর রওফ বিশ্বাস, মিরান তরফদার, আলমগীর হোসেন, আনিচুর রহমান ও সতীশ মল্লিকসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments