যশোর প্রতিনিধি:যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে ‘ডাকাত পড়েছে’ বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর পাঁচ যুবককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের দুই গ্রামের মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে একটি প্রাইভেটকার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন যুবক বালিয়াডাঙা বিসিক এলাকার দিকে যান। পরে তাঁদের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা ও তল্লাশি করতে দেখা যায়। তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করেন।
একপর্যায়ে মান্দারতলা এলাকায় প্রাইভেটকারটি রেখে কয়েকজন পালিয়ে যান। পরে মালোপাড়া এলাকা থেকে পাঁচ যুবককে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—ঝিকরগাছা উপজেলার বাইশা চাঁদপুর গ্রামের রাসেল, নাহিদ, নিরব, সুজন ও তানজিম। গণপিটুনিতে আহত অবস্থায় তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই যুবকদের সঙ্গে একজন নারীও ছিলেন। তবে তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক যুবকেরা ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁদের একজন দাবি করেন, এক আদম ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা নিতে তাঁরা এলাকায় এসেছিলেন। আরেকজন বলেন, তাঁদের একজনের স্ত্রীকে নিতে এসেছিলেন। অপর একজন দাবি করেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাঁদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য হতে পারেন। তবে তাঁদের কাছ থেকে ডাকাতির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন তাঁদের মারধর করে পুলিশের কাছে দিয়েছেন। আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।

