যশোরে পৃথক দুটি মামলায় এক মাদক ব্যবসায়ীকে যাবজ্জীবন এবং চরমপন্থি সংগঠন ‘মৃণাল বাহিনী’র সদস্য ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আনিচুর রহমান শেখ ওরফে আনিচকে ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ষষ্ঠ আদালতের বিচারক শাহিনুর রহমান এবং তৃতীয় আদালতের বিচারক আইরিন পারভিন পৃথক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
৩০০ গ্রাম হেরোইন রাখার দায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আশিকুর রহমান ওরফে বাবু (২৬)। ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সকালে যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার ভাই ভাই স্টোরের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার পরিহিত লুঙ্গির পেছনে লাল স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো পলিথিন থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। ওই হেরোইনের আনুমানিক মূল্য ছিল দুই লাখ টাকা।
এ ঘটনায় চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এসআই সৈয়দ বায়েজীদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বাবুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
অন্যদিকে, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আনিচুর রহমান শেখ (৩৬) কেশবপুর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের জামাল শেখ গাইনের ছেলে। তিনি চরমপন্থি সংগঠন মৃণাল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাত তিনটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেশবপুর থানা-পুলিশ উপজেলার কাশিমপুর ছোট বিলে অভিযান চালায়। এ সময় একটি মাছের ঘেরের টংঘরে অবস্থানরত আনিচুর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কোমরে গোঁজা একটি পাইপগান ও লুঙ্গির কোঁচ থেকে একটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কেশবপুর থানার তৎকালীন এসআই দীপক কুমার দত্ত বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে এসআই রেফাতুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় ১০ বছর এবং ১৯(এফ) ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। দুই ধারার সাজা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে। ফলে তার মোট সাজা ১৭ বছর।
আনিচুর বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

