যশোরের কেশবপুরে ধানখেতের সেচযন্ত্রের গর্ত থেকে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলায় এবং তা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পরিকল্পিতভাবে ওই দম্পতিকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মণিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তার জেসমিন বেগম কেশবপুরের মাগুরখালি গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী। অন্যদিকে মোস্তফা কামাল একই গ্রামের মৃত কিসমত সরদারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচযন্ত্রের পানি জমার গর্তে দুজনের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের আলেক নুর ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম। এ ঘটনায় তাঁদের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতে মোস্তফা কামালের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, জেসমিন ও নিহত মাজেদা বেগম অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে তাঁরা বাড়ির কাজ শেষে মাঠে ঘাস কাটতে যান। ওই সময় মাজেদার স্বামী আলেক নুর ইসলামও মাঠে কাজ করছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠে যাওয়ার পথে জেসমিনের সঙ্গে মোস্তফার দেখা হয়। তাঁদের মধ্যে চার-পাঁচ মাস ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। মাঠে তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি অন্যদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা দুজনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ আরও জানায়, কৌশলে বেশি ঘাস পাওয়ার কথা বলে আলেক ও মাজেদাকে ঘেরের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে তালতলা এলাকার ভেড়ির কাছে মোস্তফা ধারালো কাঁচি দিয়ে আলেককে আঘাত করেন। অন্যদিকে জেসমিন ওড়না দিয়ে মাজেদাকে শ্বাসরোধ করেন। পরে কাঁচি দিয়ে তাঁকেও আঘাত করা হয়। এরপর দুজনের মরদেহ পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে ফেলে রাখা হয়।
পুলিশের দাবি, নিহত আলেক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। আঘাতের পর গর্তে পড়ে যাওয়ায় তিনি আর সেখান থেকে উঠতে পারেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতেই এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

