HomeTopনওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের নওয়াপাড়ায় পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ট্রান্সফরমার অয়েল কেনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ, মারধর ও গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ যশোরের নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মুজিবর রহমান ও স্থানীয় একটি দৈনিকের ব্যুরো প্রধান পরিচয়ধারী সরোয়ার মোস্তাফিজ মিলনের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় অনলাইনে সাধারণ ডায়রির আবেদন করা হয়েছে।
শনিবার অভয়নগর থানায় অনলাইনে লিখিতভাবে সাধারণ ডায়রির আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ট্রান্সফরমার অয়েল ব্যবসায়ী মিলন শেখ। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ এলাকার বাসিন্দা।
সাধারণ ডায়রির আবেদনে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মুজিবর রহমান ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী সরোয়ার মোস্তাফিজ মিলনের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেয়া, মারপিট করা ও চাঁদা দাবি সহ নানাবিধ অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের সাথে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে অভিযুক্ত করা রয়েছে।
সাধারণ ডায়রি ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মিলন শেখসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের পেছনে অবস্থিত কেপিসি ৪০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে নিয়মিত ট্রান্সফরমার অয়েল কিনে আসছেন। গত ২৮ অক্টোবর প্ল্যান্ট থেকে তাদের প্রথম গাড়ির মালামাল সরবরাহ করা হয়। পরদিন ২৯ অক্টোবর দ্বিতীয় গাড়িতে তেল লোড করার সময় এ বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন লোডিং চলাকালে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মুজিবর রহমান ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী সরোয়ার মোস্তাফিজ মিলন পাওয়ার প্ল্যান্টের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে প্ল্যান্ট ম্যানেজার মামুনের সঙ্গে কথা বলে তারা লোডিং করা মালামাল নিতে বাধা দেন। দাবি করেন, ওই তেল তারাই কিনবেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মালামাল কিনতে হলে পাওয়ার প্ল্যান্টের হেড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে মুজিবুর ও মিলনের সঙ্গে থাকা ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত লোক ট্রান্সফরমার অয়েল ব্যবসায়ীর দুই প্রতিনিধিকে জোরপূর্বক তুলে প্রেসক্লাবের সামনে নিয়ে আটকে রাখেন। তাদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মালামালবাহী গাড়ি বের হতে দেওয়া হবে না এবং গাড়ি বের করার চেষ্টা করলে পুড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া, ব্যবসায়ীর লোকজনকে রক্তাক্ত ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিলন শেখের অভিযোগ, প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে তাদের প্রতিনিধিদের আটকে রেখে মানসিক চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে দাবিকৃত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং বেদম মারপিট করা হয়। পরে কোনো রকমে আত্মরক্ষা করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন তারা।
ট্রান্সফরমার অয়েল ব্যবসায়ী মিলন শেখ দাবি করেন, ঘটনার সময় পাওয়ার প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা চেয়েও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর থেকে ব্যবসা পরিচালনায় চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান। নিরাপত্তার শঙ্কায় সরাসরি থানায় উপস্থিত হতে না পেরে অনলাইনে লিখিতভাবে সাধারণ ডায়রির আবেদন করেছেন।
এদিকে ট্রান্সফরমার অয়েল ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মুজিবর ও তার সহযোগী মুস্তাফিজ মিলন সাংবাদিকতার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নোয়াপাড়ার ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ফায়দা লুটে আসছেন। তারা এখন ব্যবসায়ী মহলের আতঙ্ক। তাদের কারণে ব্যবসায়ীরা পরিচ্ছন্নভাবে ব্যবসা করতে পারছেন না। মান-সম্মান ও অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতির ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে পারছেন না। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা চরম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের কারণে অনেকের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে উঠেছে। অচিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের লাগাম টেনে ধরা না হলে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পড়বেন।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, ট্রান্সফর্মার অয়েল কেনা নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদের সৃষ্টির পর একটি পক্ষ অনলাইনে জিডির আবেদন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে । এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments