যশোর সদর উপজেলার ধোপাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক গাছের ডাল কেটে প্রায় ১০০ মণ জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রুম্মন হোসাইন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটির মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কাটতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। কিন্তু ধোপাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কাটার আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। রুম্মন হোসাইনের নেতৃত্বে এসব ডাল কেটে জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
স্থানীয়দের একাংশের ভাষ্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছের ডাল কাটার মতো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। অনুমতি ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন জানান, তাঁকে ফোনে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, স্কুল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবাই মতামত দিলে ডাল কাটার অনুমতি দিতে।’
অভিযোগের বিষয়ে রুম্মন হোসাইন ভুল স্বীকার করে বলেন, পূজার ছুটি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সবাইকে না জানিয়ে ও অনুমতি না নিয়ে কাজটি করা তাঁর ঠিক হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুইটি জানান, গাছের ডাল কাটার পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। বিদ্যালয় খোলার পর বিষয়টি নিয়ে কমিটির সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
স্থানীয়রা এ ঘটনায় গাছের ডাল কাটার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, বিক্রির অর্থের পরিমাণ কত এবং অর্থের হিসাব কী—এসব বিষয় যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

