HomeTop1শাহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক

শাহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতিসহ চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের তুজোরডাঙ্গা গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই গোলাম খয়বারদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে মামলা চলছে। যার দেওয়ানি মামলা নম্বর ৫২/২৪। এরপর এমপি ৩৪৮/২০২৬ নম্বরে আরও একটি মামলা করেন শিক্ষক হাবিবুর রহমান। এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান শাহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমান।

তিনি শাহাবাদ ইউনিয়নের ৪৭ নম্বর দলজিৎপুর মৌজায় আরএস ২৩ দাগের বিরোধপূর্ণ জমি তদন্তে গিয়ে প্রকাশ্যে স্থানীয়দের কাছে ওই জমির দখল সম্পর্কে জানতে চান। উপস্থিত সবাই জানান, ওই দাগের ৪৭ শতাংশ জমির পশ্চিমাংশের সাড়ে ২৩ শতাংশ জমি ভোগদখল করেন শিক্ষক হাবিবুর রহমান গং। আর এ দাগের পূর্বাংশের সাড়ে ২৩ শতাংশ জমি ভোগদখল করেন তাঁর চাচাতো ভাই গোলাম খয়বার ও তাঁর ছেলেরা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা হিস্যা অনুযায়ী এভাবে জমি ভোগদখল করে আসছেন।

এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি প্রকাশ্যে প্রকৃত তথ্য দেওয়ার পরও শাহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমান সম্পূর্ণ জমিতে প্রতিপক্ষ খয়বারদের একক দখল বোঝানোর জন্য সুকৌশলে লিখে দেন, নালিশি জমিতে দ্বিতীয় পক্ষ তথা খয়বার গং ঘর নির্মাণ করে ভোগদখলে আছেন। বাস্তবে খয়বার ও তাঁর ছেলেরা দেওয়ানি মামলা হওয়ার পর নিজেদের অংশে ঘর নির্মাণ করেছেন। শিক্ষক হাবিবুর রহমান গংয়ের অংশে গাছ লাগানো রয়েছে এবং সেটি তাঁদের দখলে আছে। এমনকি ওই জমিতে শিক্ষক হাবিবুর রহমান গংয়ের সাইনবোর্ডও দেওয়া রয়েছে।

শিক্ষক হাবিবুরের অভিযোগ, সরেজমিনে তদন্তে যাওয়ার পর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সঙ্গে প্রতিপক্ষ খয়বার ও তাঁর ছেলেদের একাধিক গোপন বৈঠক ও দেনদরবার হয়। এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে সহযোগিতা করেন একাধিক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা। জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা আর্থিক মধ্যস্থতা করে দেওয়ার পর বিগড়ে যান ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমান। তিনি তাঁদের কথিত তথ্যের ভিত্তিতে ওই মিথ্যা প্রতিবেদন দেন।

এ ঘটনার প্রতিকারে শিক্ষক হাবিবুর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পুনঃতদন্তের আবেদন করবেন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমানের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের বিচার দাবি করেছেন।

অবশ্য ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমান অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও বিভিন্ন ব্যক্তির সুপারিশের কথা স্বীকার করে বলেন, অনেক বিচার-বিবেচনা করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তারপরও ভুল হতে পারে।

এ সম্পত্তি সম্পর্কে ভুক্তভোগী শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, আরএস রেকর্ডের সময় প্রতিপক্ষ খয়বার মোল্যা সম্পূর্ণ জমি তাঁর মা আছিয়া খাতুনের নামে রেকর্ড করে নেন। সে সময় তিনি ঢাকায় পড়াশোনা করায় বিষয়টি জানতে পারেননি। রেকর্ড করার পর দীর্ঘদিন তাঁরা বিষয়টি গোপন রাখেন। ২০১৮ সালে খয়বার গং শিক্ষক হাবিবুরদের অংশ দখল করতে গেলে রেকর্ড করে নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়। এ সময় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ভূমিদস্যুদের রুখে দেন। একই সঙ্গে জমির কাগজপত্র শিক্ষক হাবিবুর রহমানদের নামে ঠিক করে দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেন। কিন্তু এ পর্যন্ত কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়া হয়নি। বরং অসৎ উপায়ে দখল ও মালিকানা অর্জনের অপচেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষক হাবিবুর রহমান নড়াইল আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মামলা করেন।

মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী শিক্ষক হাবিবুরের ভাষ্য অনুযায়ী, খয়বারের বাবা আফছার উদ্দিন মোল্যা এসএ রেকর্ডের হিস্যা অনুযায়ী আরএস ২৩ দাগের ৪৭ শতাংশ জমির অর্ধেকের মালিক। সে হিসাবে তিনি সাড়ে ২৩ শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু খয়বার দাবি করছেন, তাঁর বাবা তাঁর মাকে সম্পূর্ণ জমি লিখে দিয়ে গেছেন। যেহেতু খয়বারের বাবা ও হাবিবুরের বাবা আপন দুই ভাই, সেহেতু এককভাবে কারও সম্পূর্ণ জমির মালিক হওয়া বা তা হস্তান্তরের সুযোগ নেই বলে দাবি করেন হাবিবুর। অথচ খয়বার ও তাঁর ছেলেরা ওই দলিলের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ জমি দখল ও মালিকানা অর্জনের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ।

এ অবস্থায় ভুক্তভোগী শিক্ষক হাবিবুর রহমান শান্তিপূর্ণভাবে পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments