বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, কোনো সংশোধন নয়, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধানের সংস্কার করতে হবে। গণভোটের রায় না মানার অর্থ জনগণের আস্থার সঙ্গে গদ্দারি ও বিশ্বাসঘাতকতা করা।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে তৃতীয় দফার লং মার্চ সফল করতে খুলনা বিভাগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত প্রস্তুতি সভার আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া ও গণভোটের রায় উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ জনগণ মেনে নেবে না। গণভোটের রায়ের ভিত্তিতেই সংবিধানের মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।
তৃতীয় দফার লং মার্চ প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে জনমত সংগঠিত করতে চান তাঁরা। সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেই বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরাই তাঁদের লক্ষ্য।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে পুলিশকে একা চলাচল করতে নিষেধ করতে হচ্ছে। পুলিশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে।
জ্বালানি তেল, গ্যাসসহ বিভিন্ন পণ্যের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সবকিছু লাগামহীন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
বর্তমান সরকার দেশের মঙ্গলের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি মনোযোগী বলে অভিযোগ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নয়, বরং ‘সবার আগে বিএনপি’ নীতিতে বিশ্বাসী। সারের ডিলারশিপে দলীয়করণের মাধ্যমে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবার ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে তৃতীয় দফার লং মার্চ শুরু হবে। কর্মসূচিটি খুলনা ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। লং মার্চ সফল করতে দলমত-নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন, যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপিসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

