HomeTop1সৌদির নিরাপত্তায় সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান

সৌদির নিরাপত্তায় সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান

সৌদি আরবের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। তবে এ সিদ্ধান্তে দেশটির পার্লামেন্টের কোনো ভূমিকা নেই।

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর এমন পদক্ষেপ নিয়েছে ইসলামাবাদ। এতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তানের পার্লামেন্ট।

কিন্তু এবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটি ছাড়াই সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে দেশটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সোমবার প্রথমবারের মতো কার্যকর করা হয়।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তিন দেশের প্রতিনিধিদের এক জরুরি বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির অংশ নেন। বৈঠক শেষে দেশ তিনটি জানায়, সম্মত সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েন করা হবে। তবে কত সেনা পাঠানো হবে, তাদের দায়িত্ব কী হবে, কার নেতৃত্বে তারা কাজ করবে এবং এ মোতায়েনের ব্যয় কত-এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, জোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা বা পার্লামেন্টের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। মোতায়েনের বিস্তারিতকে ‘সামরিক কার্যক্রমের গোপনীয় বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।

সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বাড়াচ্ছেন মুনির

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব দীর্ঘদিনের। তবে আসিম মুনিরের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা আরও বেড়েছে। গত বছর সংবিধানে পরিবর্তনের মাধ্যমে তাকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত তিন বাহিনীর কমান্ডে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে ফিল্ড মার্শাল হিসেবে আজীবন পদমর্যাদা ও ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে দায়মুক্তিও দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তে পার্লামেন্টের অনুপস্থিতি দেশটির সামরিক ও বেসামরিক ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, আগে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলে সামরিক বাহিনী তা মেনে চলত। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।

২০১৫ সালে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান

২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে অংশ নিতে পাকিস্তানের কাছে সেনা, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ চেয়েছিল রিয়াদ। তখন বিষয়টি পার্লামেন্টে তোলা হয়। পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে ইয়েমেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও পবিত্র স্থানগুলো রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইসলামাবাদ।

এবারের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো বদলায়নি বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, পার্থক্যটি মূলত রাজনৈতিক-সামরিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে পার্লামেন্টের ভূমিকা আগের তুলনায় কম দৃশ্যমান।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ

সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনাদের সম্ভাব্য দায়িত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তারা সরাসরি হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হুতিরা জুলাইয়ে সৌদি আরবগামী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর তেলবাহী ট্যাংকার ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। দেশটি যদি সরাসরি ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তেহরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত আগের একটি চুক্তির আওতায় মে মাসের মধ্যে প্রায় আট হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স। নতুন চুক্তিটি সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র জুলফি বুখারি সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করেননি। তবে তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিচক্ষণতার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, বিদেশি অংশীদাররা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে অপরিহার্য শক্তি হিসেবে বিবেচনা করায় দেশের অভ্যন্তরেও সামরিক বাহিনীর প্রভাব আরও জোরদার হচ্ছে। তার ভাষ্য, বিদেশি অংশীদাররা পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা তৈরি না করলেও তাদের আচরণ এর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর প্রভাবকে শক্তিশালী করতে পারে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments