যশোর সদর উপজেলার ৮ নম্বর দেয়াড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদপুর নতুন বাজারে সরকারি রাস্তা ও খাসজমি দখল করে পাকা দোতলা ভবন ও সিঁড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর নতুন বাজারের মধ্য দিয়ে প্রায় ২৬ ফুট প্রশস্ত একটি সরকারি পাকা রাস্তা রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি ওই রাস্তার পূর্ব পাশ থেকে প্রায় ১০ ফুট সরকারি জায়গা দখল করে পাকা দোতলা দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। একই সঙ্গে বাজারের ক্রেতা-সাধারণের চলাচলের রাস্তার ওপর ঝুলন্ত সিঁড়ি নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. আমির হোসেন (পিতা: আবুল হোসেন, সাং- ফরিদপুর) ওই নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, তাঁর নিজস্ব ১৩৪৯ দাগে প্রায় ৬০ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ জমি রয়েছে। তবে তিনি জমির সীমানা অতিক্রম করে পাশের সরকারি ১৩৫০ দাগের জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফরিদপুর নতুন বাজারের জন্য সরকারি ১৩৫০ দাগে মোট ২৬ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে এর মধ্যে প্রায় ১৬ শতাংশ জমি বাজারের জন্য উন্মুক্ত বা ব্যবহারের আওতায় রয়েছে। বাকি প্রায় ১০ শতাংশ জমি বিভিন্ন ব্যক্তির দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বাজারের কয়েকজন প্রবীণ ব্যবসায়ী জানান, একসময় ফরিদপুর নতুন বাজারটি বেশ জমজমাট ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে বাজারের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে ব্যবসায়িক পরিবেশের পাশাপাশি ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
তারা অবিলম্বে সরকারি জমি ও রাস্তা দখলমুক্ত করে বাজারের পরিধি ও চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আমির হোসেন বলেন, ভূমি অফিসের নির্দেশে বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। কাজের কোনো অংশ নিয়মবহির্ভূত হলে তা ভেঙে ফেলা হবে। আর সবকিছু সঠিক থাকলে পরবর্তী সময়ে আবার নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

