যশোর প্রতিনিধি: প্লান ছাড়া অবৈধ ভাবে যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড বাইলেন মুচিপাড়া রোডে (বউবাজার) বহুতল (৯তলা) ভবন নিমাণ করা হচ্ছে। ফলে এখানে বসবাসের পরিবেশ মারাতœক ভাবে ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। ইতিমধ্যে প্লান ছাড়া ভবন নির্মানের প্রতিবাদে এলাকাবাসি পৌর সভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভবন নির্মান নীতিমালা অনুযায়ি অনুমোদন প্রক্রিয়া বহুতল ভবনের ছাড়পত্র মূলত তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয় ধাপ ১: পরিকল্পনা অনুমোদন ভবন নির্মাণের জন্য এটি প্রথম ও প্রাথমিক অনুমতি। জমির মালিকানা সংক্রান্ত মূল কাগজ এবং ডিজিটাল সার্ভে ম্যাপ দিয়ে আবেদন করতে হয়। বিল্ডিং কনসট্রাকশন কমিটি (বিসি কমিটি) পরিকল্পনা বিভাগ জমিটি আবাসিক, বাণিজ্যিক নাকি অন্য কোনো ব্যবহারের উপযোগীÑতা যাচাই করে এই ছাড়পত্র দেয়। ধাপ ২: নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন পাওয়ার পর নির্দিষ্ট আর্কিটেক্ট ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা প্রস্তুতকৃত নকশা দিয়ে নির্মাণ অনুমোদনের আবেদন করতে হয়। ধাপ ৩: বসবাস বা ব্যবহার সনদ ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর কর্মকর্তারা এসে নকশা অনুযায়ী ঠিকঠাক কাজ হয়েছে কিনা তা পরিদর্শন করেন। এরপরই ভবনে বসবাসের বা ব্যবহারের বৈধ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
বহুতল ভবনের জন্য বিশেষ শর্ত যদি প্রস্তাবিত ভবনটি ১০ তলার বেশি বা বিশেষ কোনো প্রজেক্ট হয়, তবে চূড়ান্ত ইমারত নির্মাণ অনুমোদনের আগে দেশের ৯টি ভিন্ন সংস্থা থেকে ছাড়পত্র বা অনাপত্তিপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র) পরিবেশ অধিদপ্তর (পরিবেশগত ছাড়পত্র) বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ভবনের উচতা অনুযায়ী প্রযোজ্য হলে। ভূগর্ভস্থ মাটির পরীক্ষার রিপোর্ট এবং পাইল ফাউন্ডেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ইনডেমনিটি বন্ড। পৌরসভা ও অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকার প্রক্রিয়া দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পৌরসভা এলাকায় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ নকশা অনুমোদন করে। সুউচ্চ ভবন কমিটি: জেলা বা পৌরসভা পর্যায়ে সাধারণ ভবনের নকশা পৌর ইঞ্জিনিয়াররা পাশ করলেও বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে “জেলা সুউচ্চ ভবনের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও নকশা অনুমোদন সংক্রান্ত কমিটি”-এর বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান: জমির লে-আউট পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যানের সড়ক বা ড্রেনেজ ব্যবস্থার সাথে সাংঘর্ষিক কিনা তা কঠোর ভাবে যাচাই করা হয়।
বহুতল ভবনের প্রধান টেকনিক্যাল নিয়মকানুন অনুযায়ী ভবনের উচ্চতা এবং আয়তন নির্ধারণে নিচের নিয়মগুলো মানা বাধ্যতামূলক: ঋঅজ (ঋষড়ড়ৎ অৎবধ জধঃরড়): মোট জমির আয়তনের তুলনায় কত তলা বা কত স্কয়ার ফিট ভবন নির্মাণ করতে পারবেন, তা এই অনুপাত দিয়ে নির্ধারিত হয়। এলাকাভিত্তিক এর মান ভিন্ন হয়ে থাকে। সেটব্যাক ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের সম্মুখভাগ, পশ্চাৎভাগ এবং দুই পাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ খোলা জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক। ১০ তলা বা তার বেশি ভবনের ক্ষেত্রে এই ফাঁকা জায়গার পরিমাণ সাধারণ ভবনের চেয়ে অনেক বেশি রাখা হয় যেন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারে। রাস্তার প্রশস্ততা: ভবনের সামনের রাস্তার চওড়া বা প্রশস্ততার ওপর ভিত্তি করে ভবনের সর্বোচ্চ উচ্চতা নির্ধারিত হয়। রাস্তা খুব সরু হলে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া যায় না। এ সব নিয়মনীতি না মেনেই প্লান পাশ বা অনুমোদনের আগেই ঘোপ জেল রোড বাইলেন মুচিপাড়া রোডে (বউবাজার) বহুতল ভবন নির্মান করা হচ্ছে।
যশোর জেলা বিল্ডিং কনসট্রাকশন কমিটির সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম জানান, ৭ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মানের প্লান পৌরসভা পাশ করে। ৭ তলার বেশি হলে ১০ সদস্য বিশিষ্ট জেলা বিল্ডিং কনসট্রাকশন কমিটি অনুমোদন দেয়। এই কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। অন্য সদস্যরা হলেন এলজিইডির প্রতিনিধি, জেলা পরিষদের প্রতিনিধি, পৌরসভার প্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি, ম্যানেজার যশোর এয়ারপোর্টের প্রতিনিধি, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, ও নগর উন্নয়নের প্রতিনিধি। ১০ সদস্যের কমিটির কাছে আবেদন করার পর যাচাই বাছাইয়ের পর সব কিছু সঠিক থাকলে প্লান পাশ বা অনুমোন দেয়া হবে। প্লান পাশের আগে কোন ভাবে ভবন নির্মাণের কাজ করা অবৈধ বা বেআইনি। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্লান পাশের আগেই ঘোপ জেলরোড বাইলেন মুচিপাড়া রোডে (বউবাজার) অবৈধ ভাবে ৪ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্লান পাশ না করে ভবন নির্মাণ করায় বসবাসের পরিবেশ মারাতœক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা রয়েছে। ভবিষ্যতে আলোবাতাস, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা, ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা বিঘিœত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এ বিষয়ে এলাকাবাসি পৌরসভায় অভিযোগ দাখিল করেছেন। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ অবৈধ ভাবে নির্মিত বহুতল ভবন কর্তৃপক্ষ বা মালিকদের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে ভবন কর্তৃপক্ষ ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি দিয়ে অবৈধ ভাবে ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এ ব্যাপারে এলাকাবাসি জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। প্লান পাশ না করে কি ভাবে বহুতল ভবন নির্মান করছেন জানতে চেয়ে ভবনের দুজন অংশিদার ডাঃ হাদিউজ্জামান, ডাঃ সফিউল আলমকে মোবাইল করা হলে কেউ ফোন রিসিভি করেনি।

