যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালের সামনের সড়কে তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জরুরি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসা আহত রোগী ও তাদের স্বজনদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালের সামনের সড়কে যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী যানবাহন সময়মতো হাসপাতালে প্রবেশ করতে না পারায় জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শহরের বিভিন্ন সড়কে অতিরিক্ত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল এবং যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে যানজট আরও তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের আশপাশে রাস্তার ওপর মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন পার্কিং করায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যশোর কিংস হাসপাতালের সামনেও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রাস্তার ওপর পার্কিং করেন। এছাড়া বিভিন্ন চিকিৎসকের চেম্বারে আসা রোগী ও স্বজনদের যানবাহনও অনেক সময় সড়কের ওপর রাখা হয়। এতে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়ে যানজট আরও বাড়ছে।
অন্যদিকে, হাসপাতাল এলাকায় পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কিছু অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেল রাস্তার ওপর রাখার অভিযোগ রয়েছে। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে যানজটের মধ্যে আটকে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
যশোর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দাবি, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করা হলে যানজট নিরসন করা কঠিন। একই সঙ্গে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ এবং নির্দিষ্ট স্থানে যানবাহন রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
নগরবাসীর অভিযোগ, যানজটের কারণে প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা জরুরি রোগীদের দুর্ভোগ আরও উদ্বেগজনক।
শহরবাসীর দাবি, যানজট নিরসনে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রাস্তার ওপর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং হাসপাতাল এলাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে যশোর শহরকে তীব্র যানজটের কবল থেকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

