HomeTopদুর্গাপূজায় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় জোর, যশোরে ৫২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে বিজিবি

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় জোর, যশোরে ৫২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে বিজিবি

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে যশোরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর জেলা শাখা। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দুই হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর শহরের লালদিঘীর পুকুরপাড়ে পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবার যশোরের আট উপজেলায় মোট ৭২৯টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে যশোর সদরে ১৩৫টি, অভয়নগরে ১৩৩টি, মনিরামপুরে ১৩১টি, কেশবপুরে ১০২টি, বাঘারপাড়ায় ৮২টি, ঝিকরগাছায় ৬১টি, চৌগাছায় ৫৩টি এবং শার্শায় ৩২টি মন্দির ও মণ্ডপ রয়েছে।

১৫ অক্টোবর সকালে বোধন ও বিকেলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

উৎসবের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে লালদিঘীর পুকুরপাড়ে পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

প্রতিটি মণ্ডপে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, বিকল্প আলোর ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম প্রবীণদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উসকানিমূলক গান পরিবেশন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করতে জেলার প্রতিটি উপজেলায় হিন্দু-মুসলিম জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে সম্প্রীতি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সংহতি প্রকাশ করছেন।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বলেন, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও উপলক্ষ। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে, দুর্গাপূজা ঘিরে যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকা ও শহরের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)। ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, তাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ২৯টি এবং যশোর শহরে ২০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত টহল, রেকি ও মোবাইল পেট্রোল পরিচালনা করছেন। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, আনসার ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করেও নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।

বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দুই হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ৫২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে তাঁরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকবে এপিসি প্লাটুন ও কে-৯ ডগ স্কোয়াড।

যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী বিওপিগুলোতে জনবল বাড়ানো হয়েছে। তাৎক্ষণিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ব্যাটালিয়ন সদরে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। উৎসবের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপংকর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক রতন আচার্য্য, প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি রবিন কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত সরকার, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সাহা এবং পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক উৎপল কুমার ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments