Homeআন্তর্জাতিক সংবাদইয়েমেনে সংঘর্ষে ২০০ হুথি হতাহত, দাবি সেনাবাহিনীর

ইয়েমেনে সংঘর্ষে ২০০ হুথি হতাহত, দাবি সেনাবাহিনীর

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েজ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২০০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রদেশটির একাধিক রণাঙ্গনে তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি হুথিদের সামরিক অবস্থান ও যানবাহন লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি বাহিনী।

তায়েজ সামরিক অঞ্চলের এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এসব তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ বিকেলের দিকে আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

প্রদেশটির পশ্চিমে ধুবাব ফ্রন্ট এবং দক্ষিণের আল-আকরুদ ও আল-শাকাব ফ্রন্টে দিনভর লড়াই চলে।
সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, আল-মিসরাখ জেলার রাস আল-নাজদ এলাকায় হুথিদের একটি ট্যাংক ও সামরিক যানবাহনের বহর লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।

এ ছাড়া বুধবার ভোরে তায়েজ শহরের পূর্বদিকে সোফিতেল হিলের কাছে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে দুটি বিমান হামলা চালানো হয়।
একই দিন রাতে শহরটির পশ্চিমে ধুবাব ফ্রন্টে একটি ট্যাংক ও একটি সামরিক যান লক্ষ্য করে আরও দুটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তায়েজ সামরিক অঞ্চলের দাবি, বুধবারের সংঘর্ষ ও হামলায় ২০০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। এ ছাড়া হুথিদের একটি সামরিক যান ধ্বংস, দুটি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত, একটি ড্রোন ভূপাতিত এবং অস্ত্রসজ্জিত একটি সামরিক বহর ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে হতাহত ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সেনাবাহিনীর দেওয়া এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের চলতি মাসের শুরুতে শুরু করা ‘ডন অব ইয়েমেন’ সামরিক অভিযানের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখল, বিশেষ করে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থনে পরিচালিত এ অভিযান শুরুর পর দেশটির বিভিন্ন রণাঙ্গনে লড়াই তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে কৌশলগত অবস্থান ও সরবরাহপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তায়েজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তায়েজ ভৌগোলিক ও সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রদেশটির বিভিন্ন ফ্রন্টের নিয়ন্ত্রণ উভয় পক্ষের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে সেখানে চলমান লড়াইয়ের প্রভাব স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি সামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে রাজধানী থেকে সরিয়ে দিলে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়।

পরবর্তী বছর, ২০১৫ সালে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। এরপর থেকে দেশটিতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বারবার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। নতুন সামরিক অভিযান এবং তায়েজসহ বিভিন্ন এলাকায় লড়াই তীব্র হওয়ায় সংঘাতের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

তবে সর্বশেষ সংঘর্ষে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা, সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এবং নতুন অভিযানে সরকারি বাহিনীর অগ্রগতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments