HomeTop1দুই ট্রাক পণ্য আটক, বেনাপোল কাস্টমসে কর্মকর্তা লাঞ্ছিতের অভিযোগে কর্মবিরতি

দুই ট্রাক পণ্য আটক, বেনাপোল কাস্টমসে কর্মকর্তা লাঞ্ছিতের অভিযোগে কর্মবিরতি

যশোর প্রতিনিধি:বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকে দুই ট্রাক পণ্য বেরিয়ে ঢাকার সদরঘাট এলাকার একটি গুদামে পৌঁছানোর পর আটকের ঘটনায় পণ্য খালাস ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই দায়িত্ব পালনকালে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তুলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমান। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে প্রায় চার ঘণ্টা পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

সোমবার (১২ অক্টোবর) কাস্টমস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) দেওয়া লিখিত অভিযোগে কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার-২ শরফুদ্দিন মিঞার বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনেন মাঈন উদ্দিন আরমান।

অভিযোগপত্রে আরমান উল্লেখ করেন, গত ৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেডে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে ডেকে পাঠান যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা। সেখানে একাধিক কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বন্দরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল হয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে তাঁরা পণ্য ছাড়করণ কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। এতে প্রায় চার ঘণ্টা আমদানি পণ্য খালাস ব্যাহত হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার দাবিও ওঠে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেডে চার ট্রাক পণ্য ছিল। এর মধ্যে দুই ট্রাক পণ্য বন্দর থেকে বেরিয়ে ঢাকার সদরঘাট এলাকার একটি গুদামে পৌঁছায়। পরে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে পণ্যগুলো আটক করা হয়। চালানটির ম্যানিফেস্ট নম্বর 60120260030062651। এ চালানের সঙ্গে ঢাকার সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান গ্রিন ওয়ে ইন্টারন্যাশনাল এবং যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবিদ ইন্টারন্যাশনাল সংশ্লিষ্ট বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।

দুই ট্রাক পণ্য বন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ৪১ নম্বর শেডে গিয়ে খোঁজ নেন যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা। ওই শেডে পণ্য তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমান, ট্রাফিক পরিদর্শক মামুনুর রশিদ ও সহকারী শেড ইনচার্জ আশরাফুল আলম। পণ্য বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আরমান অন্য কাজে অন্যত্র ছিলেন বলে জানান।

ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে ৪১ নম্বর শেডে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের কয়েকজন বলেন, ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা চালু থাকলে ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।

তাঁরা ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য নেওয়ারও আহ্বান জানান তাঁরা।

এদিকে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার বিরুদ্ধে এর আগেও অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাঁদের অভিযোগ, নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ না করলে কোনো কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশাসনিক চাপ বা শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।

বেনাপোলের কয়েকজন ব্যবসায়ীও ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়রানি, পণ্য খালাসে জটিলতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করার অভিযোগ করেছেন। ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান ও আব্দুর রহমানসহ কয়েকজনের এমন অভিযোগের কথা জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে গাড়িতে করে কাস্টমস হাউস ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে আর কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, ৪১ নম্বর শেড থেকে পণ্য খালাস এবং এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পণ্য খালাসের নথিপত্র, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া এবং দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা ও কাস্টমসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments