HomeTop1শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ইমাম-খতিব মাও. আবু বকর সিদ্দিক কাসেমীর বিদায়

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ইমাম-খতিব মাও. আবু বকর সিদ্দিক কাসেমীর বিদায়

যশোর প্রতিনিধি : যশোরের রাজারহাট রেলগেট (স্কুলপাড়া) বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক কাসেমী হাফিজাহুল্লাহ এর ১৭ বছরের ইমামতির জীবনের ইতি টানলেন। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) ছিল তার শেষ ইমাম ও খতিব কর্মদিবস। এদিন এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হন এই গুণী ইমাম ও খতিব।

রাজারহাট রেলগেট (স্কুলপাড়া) বায়তুল আমান জামে মসজিদের এই সম্মানিত খতিব ও ইমামের বিদায়লগ্নে পুরো এলাকায় এক হৃদয়স্পর্শী ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

২০০৯ সালের তিনি ইমাম ও খতিব পেশায় যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি এলাকার এই মসজিদটির মুসল্লিদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন।

বিদায় উপলক্ষে মসজিদ কমিটি ও এলাকার মানুষের পক্ষ থেকে তাকে ফুলের শুভেচ্ছা ও উপহার দিয়ে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবে তাকে বিভিন্ন ধরনের উপহারসামগ্রীও দেওয়া হয়।

এরপর বহরসহ সুসজ্জিত প্রাইভেট যোগে ইমাম ও খতিব কে তার বাসায় পৌঁছে দেন মসজিদ কমিটির ও এলাকার মানুষ।

মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক কাসেমী হাফিজাহুল্লাহ এর বিদায় উপলক্ষে তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নিয়ে মসজিদের আলোচনা করা হয়।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সঞ্চলনায় এলাকার মানুষ আলোচনা করেন।

মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক কাসেমী হাফিজাহুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের পথচলায় আপনাদের যে ভালোবাসা পেয়েছি তা অতুলনীয়। দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেও আমৃত্যু এই জনপদের মানুষের কল্যাণ ও দ্বীনি খেদমতের জন্য দোয়া করে যাব।

বক্তারা বলেন, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক কাসেমী হাফিজাহুল্লাহ কেবল একজন ইমাম ছিলেন না, তিনি ছিলেন এই জনপদের মানুষের আত্মিক অভিভাবক।

বক্তারা মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক কাসেমী হাফিজাহুল্লাহ দীর্ঘ ১৭ বছরের দ্বীনি খেদমতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তার স্মৃতিচারণ করেন। ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া এবং দ্বীনের সঠিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন তারা। এ সময় অনেক মুসল্লি ও উপস্থিত অতিথি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

উপস্থিত মুসল্লি ও এলাকাবাসী তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং ভবিষ্যৎ জীবনের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করেন। একই সাথে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

দীর্ঘ ১৭ বছরের দায়িত্ব শেষে এমন ভালোবাসা ও সম্মানের মধ্য দিয়ে বিদায় পাওয়ায় মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক কাসেমী হাফিজাহুল্লাহ বিদায় অনুষ্ঠানটি স্থানীয়দের কাছে আবেগ ও ভালোবাসার স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments