যশোর প্রতিনিধি:যশোরের চৌগাছায় মো. হীরা নামে এক বিএনপি কর্মীকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই আটক করে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী কেয়া খাতুন।
রোববার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কেয়া খাতুন এসব অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, তার স্বামী মো. হীরা ২০০২ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক কারণে তাকে দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া থাকতে হয়। পরে এলাকায় ফিরলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলামসহ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাকেও একাধিক নাশকতার মামলায় আসামি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
কেয়া খাতুনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবার রাজনৈতিক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে রাজপথের আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে চৌগাছা হাসপাতালের সামনে থেকে যশোর ডিবি পুলিশ তার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরদিন তাকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কেয়া খাতুন বলেন, বিগত সরকারের আমলে যারা রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাদের একজনকে নতুন করে নাশকতার মামলায় কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে—এ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, মো. হীরার অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য পর্যালোচনা করলে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ভূমিকা সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিচার বিভাগের প্রতি মো. হীরার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান কেয়া খাতুন।

