বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের অভয়নগরে বিরোধপূর্ণ জমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা এবং বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা থাকা সত্ত্বেও জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যেকোনো সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৫ নম্বর শ্রীধরপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মথুরাপুর মৌজার ৯৪ নম্বর খতিয়ানের ১২২০ দাগের ১৪ শতক জমি নিয়ে মথুরাপুর গ্রামের শাহামুল হোসেন ও রমজান আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এ বিরোধের জেরে শাহামুল হোসেন বাদী হয়ে রমজান আলীসহ ছয়জনকে বিবাদী করে অভয়নগর সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন, মামলা নম্বর ১৩০/২৫।
বাদী শাহামুল হোসেনের অভিযোগ, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বুধবার বিকেলে রমজান আলী ও তার অনুসারী প্রায় ২০-২৫ জন লোক নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শাহামুল হোসেন, তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে অভয়নগর থানা পুলিশ ও স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শাহামুল হোসেন জানান, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় যশোর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলা নম্বর পি. ৭১৪/২৬। তার অভিযোগ, ওই আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ জমিতে দখল নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রমজান আলীর স্ত্রী বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে তারা ওই জমি পেয়েছেন এবং সে কারণে জমির দখল ফিরে পেতে চান। তবে তার দাবির সমর্থনে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো রায়ের কপি দেখাতে পারেননি।
অভয়নগর পাথালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আশরাফুল আলম বলেন, “বুধবার ঝামেলার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমাদের সিনিয়র অফিসার এবং সার্কেল স্যারও ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। উভয় পক্ষকে সোমবার যশোর এসপি অফিসে হাজির হতে বলা হয়েছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে বসে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিরোধপূর্ণ জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

