HomeTopঅভয়নগরে ইউনাইটেড ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর শিশুমৃত্যু: চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

অভয়নগরে ইউনাইটেড ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর শিশুমৃত্যু: চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার,রবিউল ইসলাম রিয়াদ :একটি অস্ত্রোপচার। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলেও ক্যানুলা করা হয়নি—এমন দাবি চিকিৎসকেরই। পরে শিশুকে খুলনায় নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয়েছে ছোট্ট শিশুটির।

যশোরের অভয়নগরের হাসপাতাল রোডের ইউনাইটেড ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এমনই নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলেও ক্লিনিকে যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি পায়খানা খেয়ে ফেলেছিল।

মৃত শিশুটি অভয়নগরের কামকুল গ্রামের বাসিন্দা বাইজিদ ও মুনিয়া দম্পতির সন্তান। পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ইউনাইটেড ক্লিনিকে নেওয়ার পর অস্ত্রোপচার করা হয়। এ জন্য চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের করিয়ে বিলও পরিশোধ করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলেও প্রত্যাশিত চিকিৎসা ও তদারকি পাওয়া যায়নি। পরদিন শিশুটিকে খুলনায় নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এখানেই উঠছে প্রশ্ন—অস্ত্রোপচারের পর সংকটাপন্ন শিশুর জন্য ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত ছিল?
প্রেসক্রিপশনে ওষুধ, কিন্তু ক্যানুলা কোথায়?
ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে চিকিৎসক মো. আমানাতুল্লাহ বাপ্পির বক্তব্যে।
তিনি জানান, শিশুটিকে দেওয়া ওষুধ ক্যানুলার মাধ্যমে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্লিনিকে ক্যানুলা করা হয়নি। ফলে ওষুধ দেওয়াও সম্ভব হয়নি বলে পরদিন তাকে জানানো হয়।

যদি চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ দেওয়ার প্রয়োজন থাকে, তাহলে ক্যানুলা করা হলো না কেন?
ক্যানুলা করার মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ক্লিনিকে ছিল না, নাকি অন্য কোনো কারণে তা করা হয়নি—এ প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

চিকিৎসক বাপ্পির ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে তিনি শিশুটিকে নীলবর্ণের দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে খুলনায় রেফার করা হয়।
ইউনাইটেড ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষে মো. ইলিয়াস হোসেনের দাবি, শিশুটি পায়খানা খেয়ে ফেলেছিল। পরদিন চিকিৎসক তাকে খুলনায় রেফার করেন।

আর ক্যানুলা করা হয়নি কেন—এ প্রশ্নেরও তিনি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, শিশুমৃত্যুর ঘটনার দুই দিন পর ক্লিনিকে ভর্তি থাকা আরও দুই রোগীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি খালি হয়ে যায় বলে জানা গেছে।

ঘটনার সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে এমন পরিস্থিতি ক্লিনিকটির চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, রোগী ধারণক্ষমতা এবং জরুরি চিকিৎসাসুবিধা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ঘটনার পর চিকিৎসক মো. আমানাতুল্লাহ বাপ্পি ওই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিশুটির অস্ত্রোপচারের সময় তার মা সুস্থ ছিলেন এবং শিশুটির অবস্থা কিছুটা দুর্বল ছিল। প্রেসক্রিপশন দিয়ে তিনি রাতে চলে যান। সকালে এসে শিশুটিকে নীলবর্ণের দেখতে পান। পরে শিশুটিকে খুলনায় রেফার করা হয়।

চিকিৎসকের ভাষায়, “আমি মানুষের জীবন রক্ষা করার জন্য ডাক্তারি পড়েছি, জীবন নেওয়ার জন্য নয়।”

তার এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে—ঘটনার পর ক্লিনিকের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাসহ ও বৈধতা নিয়েও।
শুধু শিশুমৃত্যু নয়, ইউনাইটেড ক্লিনিকের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলিমুল রাজীব জানান, শিশু মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্লিনিকটির বৈধ কাগজপত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, “শুনেছি ইউনাইটেড নামের একটি ক্লিনিক হয়েছে, কিন্তু তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।”

তবে ক্লিনিকটির লাইসেন্স, নিবন্ধন, অস্ত্রোপচারের অনুমোদন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments