লাইফস্টাইল ডেস্ক: ঘুমের ঘাটতি, দীর্ঘ সময় কাজের চাপ, মানসিক দুশ্চিন্তা কিংবা শারীরিক ক্লান্তির প্রভাব অনেক সময় মুখের চেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে চোখে। চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা চোখ বসে যাওয়ার মতো সমস্যা মুখে ক্লান্ত ও অসুস্থতার ছাপ তৈরি করতে পারে।
তবে কিছু সহজ অভ্যাস ও যত্নের মাধ্যমে চোখের চারপাশের ক্লান্তিভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ঠান্ডা চামচে কমতে পারে ফোলা ভাব
চোখের নিচে ফোলা ভাব দেখা দিলে ঠান্ডা ধাতব চামচ কাজে লাগতে পারে।
একটি ছোট চামচ কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিতে হবে। এরপর চোখের নিচের ফোলা অংশে খুব হালকা হাতে কিছুক্ষণ চামচটি বুলিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
এতে সাময়িকভাবে ফোলা ভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ব্যবহার করতে পারেন আন্ডার-আই ক্রিম
চোখের নিচের ত্বকের যত্নে বাজারে পাওয়া আন্ডার-আই ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।
এসব ক্রিমে থাকা কিছু উপাদান চোখের নিচের ত্বককে উজ্জ্বল ও টানটান রাখতে সহায়তা করে। হ্যালুরনিক অ্যাসিড, নায়াসিনামাইড, ভিটামিন সি ও রেটিনয়েডসের মতো উপাদান এ ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে।
খাবারের দিকেও নজর দিন
চোখের নিচে কালচে দাগ বা ফোলা ভাবের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসেরও সম্পর্ক থাকতে পারে। শরীরে আয়রন, ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন কে-এর ঘাটতি থাকলে চোখের নিচে কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান না করলেও চোখের চারপাশে ফোলা ভাব তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
দ্রুত সমাধানে মেকআপ
তাৎক্ষণিকভাবে চোখ ও মুখের ক্লান্তির ছাপ আড়াল করতে মেকআপ বেশ কার্যকর হতে পারে। সামান্য ফাউন্ডেশন ও কনসিলার ব্যবহার করে চোখের নিচের কালচে ভাব ঢেকে দেওয়া যায়। চোখকে আরও সতেজ দেখাতে ন্যুড আই পেন্সিলও ব্যবহার করা যেতে পারে।
চোখের পাপড়িতে দিন বাড়তি গুরুত্ব
চোখকে উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য চোখের পাপড়ির দিকেও নজর দেওয়া যেতে পারে। মাসকারা ব্যবহারের পাশাপাশি আইল্যাশ কার্লার দিয়ে পাপড়ি একটু উঁচু করে নিলে চোখের সৌন্দর্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এতে চোখের ক্লান্ত দেখানোর প্রবণতাও কিছুটা কম মনে হতে পারে।
ঠিকঠাক রাখুন ভ্রু
অগোছালো ভ্রু মুখের সামগ্রিক সৌন্দর্যে প্রভাব ফেলতে পারে এবং চোখকে কিছুটা অনুজ্জ্বল দেখাতে পারে। অন্যদিকে, পরিচ্ছন্ন ও সঠিকভাবে থ্রেডিং করা ভ্রু চোখের আকৃতি আরও স্পষ্ট করে তোলে। তাই চোখকে সতেজ দেখাতে ভ্রুর যত্ন নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
কপালের পেশির যত্ন নিন
চোখের চারপাশের ক্লান্তিভাবের পেছনে কপালের পেশির ভূমিকা থাকতে পারে। বিস্ময়, বিরক্তি বা বিভিন্ন অভিব্যক্তি প্রকাশের সময় কপালের পেশিও সক্রিয় থাকে। এমনকি বারবার চোখের পাতা খোলা ও বন্ধ করার ক্ষেত্রেও কপালের পেশির ভূমিকা রয়েছে।তাই চোখের ক্লান্তি কমাতে কপালের পেশিকেও কিছুটা বিশ্রাম দেওয়া দরকার। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিংবা দিনের অন্য কোনো সময় কপালে আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা হাতে মালিশ করা যেতে পারে। এতে মুখের পেশিতে জমে থাকা টান কিছুটা কমে আরাম পাওয়া যেতে পারে।
চোখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ কমানোর দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

