ভালো থাকতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি—এ কথা কমবেশি সবাই জানেন। কিন্তু শুধু কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন, সেটিই কি যথেষ্ট?
নতুন এক গবেষণা বলছে, ঘুমের সময়ের নিয়মিততাও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ প্রতিদিন একই সময়ের কাছাকাছি ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শুধু ঘুমের মান নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধু বেশি ঘুম নয়, নিয়ম মেনে ঘুমও জরুরি
ছুটির দিনে একটু দেরি করে ঘুমানো বা সকালে বেশি সময় বিছানায় থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু নিয়মিত জীবনে ফিরতে হলে ঘুমের সময়ও ঠিক করা প্রয়োজন।
যুক্তরাজ্যে ৬০ হাজার ৯৭৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর করা এক গবেষণায় প্রায় এক কোটি ঘণ্টার ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যারা নিয়ম মেনে ঘুমাতেন, তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ২০ থেকে ৪৮ শতাংশ কম ছিল।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, মৃত্যুঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে মোট কত ঘণ্টা ঘুম হয়েছে, তার চেয়েও ঘুমের নিয়মিততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তবে এটি ছিল পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। তাই এর মাধ্যমে ঘুমের নিয়মিততার সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি কমার সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণ করা যায় না।
ঘুমের সময় বদলালে শরীরের ঘড়িও এলোমেলো হয়
এর একটি কারণ হতে পারে শরীরের নিজস্ব ২৪ ঘণ্টার ঘড়ি। এই স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে ঘুম ও জাগরণ ছাড়াও রক্তচাপ, হরমোন এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ জড়িত।
প্রতিদিন ঘুমানোর ও জাগার সময় বারবার বদলে গেলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দও ব্যাহত হতে পারে। ফলে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস শরীরের এই ছন্দ ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ঘুমের রুটিন ঠিক রাখবেন যেভাবে
নির্দিষ্ট সময়ে উঠুন
প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। কোনো দিন খুব ক্লান্ত থাকলে বেশি সময় বিছানায় পড়ে না থেকে রাতে একটু আগে ঘুমাতে পারেন। প্রয়োজন হলে দুপুরের শুরুতে অল্প সময় ঘুমানো যেতে পারে।
ঘুমের আগে মোবাইল দূরে রাখুন
ঘুমানোর আগের এক ঘণ্টায় মোবাইল, কম্পিউটারসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্র এবং উজ্জ্বল আলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এক ঘণ্টা সম্ভব না হলে শুরুতে ১৫ মিনিট করে সময় কমানোর অভ্যাস করা যেতে পারে। কারণ উজ্জ্বল আলো মস্তিষ্ককে জেগে থাকার সংকেত দেয় এবং শরীরের স্বাভাবিক ঘড়িকেও প্রভাবিত করতে পারে।
ছুটির দিনেও সময়টা ধরে রাখুন
সপ্তাহের ছুটির দিনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। তাই ছুটির দিনেও ঘুমানো ও ওঠার সময় স্বাভাবিক রুটিনের চেয়ে এক ঘণ্টার বেশি এদিক-ওদিক না করার চেষ্টা করা ভালো।
সকালের আলোয় বের হন
ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুটা সময় বাইরে সকালের প্রাকৃতিক আলোয় কাটানো ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। সকালের উজ্জ্বল আলো মন-মেজাজ ও মনোযোগের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এক দিন রুটিন নষ্ট হলে চিন্তার কিছু নেই
এর অর্থ এই নয় যে প্রতিদিন ঘড়ির কাঁটার মতো জীবনযাপন করতে হবে। অসুস্থ সন্তান, কাজের চাপ কিংবা পরিবারের জরুরি প্রয়োজনে কোনো কোনো রাতে ঘুমের সময় বদলে যেতেই পারে।
এমন হলে তা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত নিখুঁত রুটিন তৈরি করা নয়, বরং যতটা সম্ভব নিয়মিত থাকা।
ভালো ঘুমের শুরু দিনের অভ্যাসে
ভালো ঘুমের জন্য শুধু রাতের হিসাব করলেই হবে না। দিনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো, একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা এবং সকালে কিছুটা সময় প্রাকৃতিক আলোয় কাটানোর মতো ছোট ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।
তাই আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি কখন ঘুমাচ্ছেন এবং কখন উঠছেন—সেদিকেও নজর দিন। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসই হতে পারে ভালো ঘুম ও সুস্থ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

