Homeআন্তর্জাতিক সংবাদইউক্রেনীয় বন্দরে রুশ হামলার পর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চাইলেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনীয় বন্দরে রুশ হামলার পর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চাইলেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় শস্য রপ্তানি বন্দর ইজমাইলে রাতভর হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে বন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সেখানে আগুনও ছড়িয়ে পড়ে। এমন হামলার মধ্যেই রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইজমাইলের আঞ্চলিক প্রশাসন জানায়, রুশ হামলায় বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

রোমানিয়া সীমান্তের কাছে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চলে অবস্থিত ইজমাইল ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শস্য ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি বন্দর। যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে রপ্তানিতে বাধা তৈরি হওয়ার পর দানিউবের এই বন্দরটি ইউক্রেনের বাণিজ্যের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইজমাইলের কাছে হামলার ঘটনায় প্রতিবেশী ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রোমানিয়া সতর্কতামূলকভাবে দুটি যুদ্ধবিমান পাঠায়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি আকাশযান প্রায় ১০ মিনিট রোমানিয়ার আকাশসীমায় অবস্থান করার পর ইউক্রেনের দিকে চলে যায়।

রুশ হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার বাড়তে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের অন্তত ৫ শতাংশ ইউক্রেনকে দেওয়া প্রয়োজন।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের ১০ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পেলে রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে।

জেলেনস্কি বলেন, আমাদের কাছে ৫ শতাংশ বিক্রি করুন, আমরা শীত পার করতে পারব এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে পারব। তারা যদি ১০ শতাংশ দিতে পারে, তাহলে আমরা রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারব। আমার কাছে আছে ১ শতাংশ।

ইউক্রেন বর্তমানে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বাধুনিক সংস্করণ পিএসি-৩ পাওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম।

তবে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ কমে গেছে।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক দ্রুতগতির এবং খাড়া গতিপথে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যায়। ফলে এগুলো প্রতিহত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন।

ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনত জানিয়েছেন, শুধু জুলাই মাসেই রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ৪৫০টির বেশি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

তিনি আরও জানান, ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী এখন থেকে প্রতিদিন কতগুলো রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করবে না। এর পরিবর্তে মাসভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হবে।

সূত্র : রয়টার্স

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments