প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) আয়োজিত ‘ক্ষুদ্রঋণ খাতে কর্মসংস্থান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য বিমোচন: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দিনব্যাপী আয়োজিত চাকরি মেলায় ৩৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এতে ২০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। মেলা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ১ হাজার ১১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী নির্বাচিত চাকরিপ্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মাইক্রোক্রেডিট খাতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ কর্মরত রয়েছেন। আগামী এক বছরের মধ্যে এ সংখ্যা সাড়ে তিন লাখে উন্নীত করার চেষ্টা চলছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম ভাতা, কৃষক কার্ড ও যুব উন্নয়ন কার্ড চালু করা হয়েছে।
মানুষের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে বিতর্ক তৈরির কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ এই সংশোধনীকে হেবা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সংশোধিত আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হেবা বা অন্য কোনো আইনের আওতায় কোনো ধর্মের মানুষের সম্পত্তি হস্তান্তর এই সংশোধনীর কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না।
তিনি আরও বলেন, দান, উইল কিংবা অন্য যেকোনো বৈধ উপায়ে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও এই সংশোধনী কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। যারা বিতর্ক সৃষ্টি করছেন, তারা আইনের সংশ্লিষ্ট অংশ না পড়েই রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করছেন। তিনি সবাইকে আইনটি ভালোভাবে পড়ার আহ্বান জানান।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।
স্বাগত বক্তব্য দেন আর্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শামসুল আলম, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেরিনা আক্তার এবং আরআরএফের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বিশ্বাস।

