HomeTop1বিয়ের আগেই অভিনেত্রী রিধিকার মৃত্যু

বিয়ের আগেই অভিনেত্রী রিধিকার মৃত্যু

অভিনেত্রী লিনা আক্তার রিধিকা (২৬) মারা গেছেন। রাজধানীর ভাটারা থানার একটি বাসায় শুক্রবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, প্রেমিক হাসিবুর রহমানের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় রিধিকা আত্মহত্যা করেছেন।
রিধিকার ঘনিষ্ঠ বান্ধবীদের ভাষ্য, আগামী শুক্রবার হাসিবুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।

বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি দুই বান্ধবীকে বলেছিলেন, ‘এভাবে আর কতদিন? এরকমভাবে জীবন আর চলে না। এবার সংসার বাঁধব, বাসা নেব।

ভাটারা থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় রিধিকার সঙ্গে তার দুই বান্ধবীও ওই বাসায় ছিলেন। তাদের একজনের নাম পরী ও অন্যজনের নাম পাখি-দুজনেরই ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

তারা দুজনই ট্রান্সজেন্ডার। পরী ছিলেন রিধিকার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী।
পরী জানান, শুক্রবার রাতে তারা সবাই একই কক্ষে ছিলেন। এ সময় রিধিকা হাসিবুর রহমানের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। রিধিকা হাসিবকে মদ খাওয়া এবং তাকে না জানিয়ে বাইরে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে তিনি ওষুধ খাওয়ার কথা বললে হাসিব তাকে ‘নাটক’ না করার কথা বলেন।

এরপর রিধিকা দুই বান্ধবীকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। হাসিবের সঙ্গে জরুরি কথা আছে জানিয়ে তিনি কক্ষে একাই থাকেন। দুই বান্ধবী তখন পাশের কক্ষে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরী বলেন, কিছুক্ষণ পর তারা জোরে দরজায় ধাক্কার শব্দ শুনতে পান। পরে হাসিবুর রহমান বাসায় এসে রিধিকার কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে রিধিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে রিধিকার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে গলায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির কালো দাগ ছিল বলে জানা গেছে।

বিয়ের কথা ছিল শুক্রবার
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, হাসিবুর রহমানের সঙ্গে রিধিকার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। হাসিবুর পুলিশকে জানিয়েছেন, রিধিকা কিছুটা রাগী স্বভাবের ছিলেন এবং ছোটখাটো বিষয়েও হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে যেতেন।

ওসি বলেন, ঘটনার রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। হাসিবুরের ভাষ্য অনুযায়ী, রিধিকা তাকে কোথায় গিয়েছেন, কেন বারে গিয়েছেন এবং তাকে না জানিয়ে কেন এসব করেছেন—এসব নিয়ে প্রশ্ন করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ওষুধ খাওয়ার কথাও বলেন। তখন হাসিবুর তাকে ‘নাটক’ না করার কথা বলেন। এরপর রিধিকা তার দুই বান্ধবীকে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার বাদী হচ্ছেন রিধিকার মা মনি বেগম।

দীর্ঘদিন ছিল পারিবারিক দূরত্ব
ঘনিষ্ঠ বান্ধবী পরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলাতেই রিধিকার বাবা মারা যান। মায়ের একাধিক বিয়ে হয়েছিল। বর্তমানে মায়ের স্বামীই ছিলেন তার সৎ বাবা। তার একটি সৎ বোন রয়েছে, যিনি বিদেশে থাকেন।

পরী জানান, পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে অনেক আগেই রিধিকা বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। একসময় মিরপুর ১২ এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে তার একটি বিয়েও দেওয়া হয়েছিল বলে শুনেছেন পরী। পরে সেই বিয়ে ভেঙে যায়। এরপর ইমন নামে এক যুবকের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়েছিল, তবে সেই সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়নি।

পরীর দাবি, দীর্ঘ ছয়-সাত বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে রিধিকার যোগাযোগ প্রায় ছিল না। পরিবারের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল না। এমনকি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করতে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথাও তিনি আগে বলেছিলেন বলে জানান পরী।

দেড় বছরের বেশি সময় ছিল না অভিনয়ের কাজ
রিধিকা নাটক ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করতেন। তবে গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে তার হাতে তেমন কোনো কাজ ছিল না বলে জানান তার বান্ধবীরা। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর নাটক বা বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ পাননি তিনি। ফেসবুকের মাধ্যমে টুকটাক কাজ করার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরিও করতেন বলে জানা গেছে।

বান্ধবী পাখি জানান, আগে তারা উত্তরায় একসঙ্গে থাকতেন। রোজার ঈদের পর রিধিকা অনলাইনের মাধ্যমে ভাটারা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ ভাড়া নেন।

পাখি আরও জানান, হাসিবুর রহমানের সঙ্গে রিধিকার কীভাবে পরিচয় হয়েছিল, তা তিনি জানেন না। তবে রিধিকাই প্রথম তাকে হাসিবুর নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা জানিয়েছিলেন। হাসিবুরের বাসা মিরপুর ৬০ ফুট এলাকায়। রিধিকার সেখানে যাতায়াত ছিল।

প্রিয় বিড়ালগুলোর কথা বললেন বান্ধবী
পরী জানান, রিধিকার দুই থেকে তিনটি পার্সিয়ান বিড়াল ছিল। বিড়ালগুলো নিয়ে বিভিন্ন ভাড়া বাসায় সমস্যাও হয়েছিল। তারপরও তিনি কখনো বিড়ালগুলো ছেড়ে দেননি। বর্তমানে বসুন্ধরার একটি বাসায় বিড়ালগুলো রয়েছে। তবে সেখানে আর নেই রিধিকা।

পরী বলেন, রিধিকার মৃত্যুর আগে ও পরে যা ঘটেছে, তার সবকিছুই তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন এবং লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।

মরদেহ নেওয়া হয়েছে মাদারীপুরে
রিধিকার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরে মরদেহ মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই রিধিকাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments