যশোর শহরের ঘোপ জেল রোডে অবস্থিত সোহাগ অটোর আড়ালে অবৈধ অনুমোদন বিহীন অটো রিকশা তৈরির চোরাই কারখানায় সারা রাত ধরেই চলে অবৈধ কর্মকান্ড। স্থানীয়রা জানান, কারখানার কর্মচারিরা অবৈধ অটো রিকশা তৈরির পাশাপাশি রাত জেগে মাদক সেবনসহ মেয়েছেলে নিয়ে ফুর্তি করে।
প্রায় রাতেই সোহাগের অবৈধ অটো রিকশা তৈরির কারখানায় যুবতি ও মহিলাদের আনাগোনা দেখা যায়। অথচ প্রশাসন অবৈধ অনুমোদন বিহীন চোরাই অটো রিকশা তৈরির কারখানার বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করছে না।
সোহাগ অটোর দোকানের সাইন বোর্ডে ইজিবাইক, অটো রিকশা, অটো সাইকেলের খুচরা পার্টস বিক্রির কথা লেখা থাকলে এর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সোহাগ সরকারের মোটা অংকের টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ অটো রিকশা তৈরি করে আসছে। অথচ প্রশাসন জেনেও না জানার ভান করে আছে। এলাকাবাসি জানায়, এক সময় সোহাগ বাড়ির সামনে মুদি দোকন চালিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাতো। এরপর হঠাৎ করে শহরের ঘোপ জেল রোডে স্যানেটারির দোকান করে। স্যানেটারির ব্যবসায় লস খাওয়ার পর সোহাগ অবৈধ অনুমোদন বিহীন চোরাই অটো রিকশা তৈরির কারখানা করে।
এ কারখানার বৈধ কোন কাগজ পত্র নেই। অবৈধ অনুমোদন বিহীন চোরাই অটো রিকশার তৈরির কারখানা করার পরই সোহাগের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। হঠাৎ করে সোহাগের আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যায়। শহরতলীর বিরামপুরে আফজাল মার্কেটের বিপরিতে দক্ষিণ পাশে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করে সোহাগ তিনতলা অট্রালিকা হাকিয়েছে। এছাড়া পাশর্^বর্তী কিসমত নওয়াপাড়ায় শ^শুর বাড়িতেও সোহাগ তিনতলা হাকিয়েছে। চলাচলের জন্য পালসার মোটর সাইকেল ব্যবহার করে। চলাফেরায় রয়েছে উচ্চ বিলাসিতা। মাসে জীবন যাত্রার ব্যয় ও প্রায় লাখ টাকার কাছাকাছি। ফলে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসা সোহাগের আয়ের উৎস কি ? আর এ উৎস খোঁজার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর কি পদক্ষেপ নিয়েছে ?
কে এই সোহাগ ঃ শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের হবিবার রহমানের ছেলে সোহাগ। পাঁচ বোন এক ভায়ের মধ্যে সোহাগ সবার ছোট। সোহাগের পিতা বিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। সোহাগ স্কুলের গোন্ডি পেরিয়ে লেখাপড়া শেষ করে।
নেশাখোর ভবঘুরেদের সাথে মেলামেশার কারণে তার আর লেখাপড়া হয়নি। এরপর বাড়ির সামনে মুদি ব্যবসা শুরু করে। তাকে পথে আনতে বিয়ে দেয়া হয় কিসমত নওয়াপাড়া গ্রামে। সোহাগের শ^শুরের নাম রফিক হাসান। তিনি উপশহর বাদশাহ ফয়সাল স্কুলের বাংলার শিক্ষক।

