কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমে কাঁদার খাল পরিষ্কার করা হয়েছে। খালের পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হওয়ায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রায় ৫০০ বিঘা আমন ধানের জমি।
বৃহস্পতিবার সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় ৫০০ ফুট খাল পরিষ্কার করেন।
স্থানীয়রা জানান, কপোতাক্ষ নদের পাশের কাদার বিলে প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ বিঘা জমিতে কৃষকেরা আমন ধানের আবাদ করেছেন। কিন্তু খালের বিভিন্ন অংশে কলমি শাক, কচুরিপানা, শ্যাওলা ও ঘাসসহ নানা ধরনের আবর্জনা জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিলের পানি দ্রুত নিষ্কাশিত না হওয়ায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এ অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ান সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. ইয়াছিন আলী। যশোর জেলা কমান্ড্যান্ট ও কেশবপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিয়াজান আলীর দিকনির্দেশনা ও পরামর্শে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন।
দীর্ঘ সময় ধরে পরিশ্রম করে তারা খালের প্রায় ৫০০ ফুট অংশের কচুরিপানা, কলমি শাক, শ্যাওলা, ঘাস ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন। এতে পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত হয় এবং বিলের পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হয়ে আসে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, খাল পরিষ্কার হওয়ায় কয়েকশ বিঘা আমন ধানের জমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন তারা।
খাল পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজে সহযোগিতামূলক পরামর্শ দেন সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর ইসলাম।
এ সময় আনসার ও ভিডিপি সদস্য হাফিজুর রহমান, শাহিনুর রহমান, আব্দুল্লাহ, ইমরান হোসেন, আব্দুল আলিম, আখতারুজ্জামানসহ স্থানীয় কৃষক সাকিব, হান্নান, সুবান, ওজিয়ার, হেকমত দালাল, নজরুল ইসলাম, লাভলু, আব্দুল্লাহ, বসিয়ার, সাখাওয়াত, রজব মজুমদারসহ অনেকে উপস্থিত থেকে কাজে সহযোগিতা করেন।
কৃষকের ফসল রক্ষায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের এ ধরনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে খাল-নালা নিয়মিত পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি কৃষকের ফসলও সুরক্ষিত থাকবে।

