যশোর শহরের বকচর হুসতলা এলাকায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপাদান মিশিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সয়াবিন বড়ি উৎপাদনের অভিযোগে ‘ইমরান ফুডস প্রোডাক্টস’ নামের একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বুধবার সকালে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, যশোর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির নানা অনিয়ম ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনে অনিরাপদ উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসে।
অভিযানকালে দেখা যায়, কায়ছার আলীর মালিকানাধীন ‘ইমরান ফুডস প্রোডাক্টস’-এর কারখানায় অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সয়াবিন বড়ি তৈরি করা হচ্ছে। উৎপাদিত সয়াবিন বড়িতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল ‘সাল্টু’ ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযানে প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া পণ্যের ওজন বাড়িয়ে অধিক মুনাফা করার উদ্দেশ্যে সয়াবিন বড়ির সঙ্গে সয়াবিনের ভূষি ও ভুট্টার গুঁড়া মেশানো হচ্ছিল। এতে একদিকে যেমন পণ্যের মান কমছে, অন্যদিকে এসব নিম্নমানের উপাদান নিয়মিত গ্রহণে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অভিযানে আরও জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন নামে ও বেনামে মোড়ক তৈরি করে এসব খাদ্যপণ্য বাজারজাত করে আসছিল। ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়াতে প্যাকেটের গায়ে স্থায়ী ও সঠিক কারখানা বা অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়নি।
এসব অনিয়ম ও ভোক্তা-স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর পৃথক দুটি ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ ঘটনাস্থলেই আদায় করা হয়েছে।
অভিযান শেষে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্ষতিকর রাসায়নিক ও অনুপযুক্ত উপাদান মিশিয়ে যারা খাদ্যপণ্য উৎপাদন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের অবশ্যই মানসম্মত কাঁচামাল ব্যবহার, সঠিক ঠিকানা উল্লেখ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন করতে হবে। অন্যথায় ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জেলা প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।
ভোক্তাদের অধিকার ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যশোর জেলায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

