img

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

মোট আক্রান্ত২৬৬,৪৯৮

সুস্থ১৫৩,০৮৯

মৃত্যু৩,৫১৩

বিশ্বে করোনাভাইরাস

মোট আক্রান্ত২০,৭৬৮,৭৯৬

সুস্থ১৩,৬৭৯,০৮১

মৃত্যু৭৫১,২৩০

বাঘারপাড়ার গাইদঘাট কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্রটি কি সংস্কার হবে না ?

image

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি : যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট গ্রামে অবস্থিত দেশের একমাত্র কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্রটি বিগত আম্পান ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে গেলেও আজ অবধি তা সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। 

এই কেন্দ্রটি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তখন বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ছিলেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনিই এই কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন। তখন এই কেন্দ্রের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন অত্র অঞ্চল তথা সারাদেশের চেনা মুখ কৃষক সংগঠক আইয়ুব হোসেন। আজীবন এই সংগ্রামী কৃষক নেতা, নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনের পুরোধা কৃষি বান্ধব সফল কৃষক সংগঠক আইয়ূব হোসেন ২০১৬ সালের ১৬ই জানুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন। তার জীবদ্দশায় এই কেন্দ্রের উদ্যোগে এলাকার ৬০টি গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন ৬৪টি কৃষি কাব। এই কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্র ৬৪টি কৃষি কাবকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আইয়ূব হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এলাকার কৃষকেরা বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশিক্ষিত হয়েছিল। এলাকার অন্তত দশ সহস্রাধিক কৃষক কৃষির বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ লাভ করেছিল এবং এসব প্রশিক্ষণ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগিয়ে যাচ্ছেন। এই কেন্দ্রের উদ্যোগে যশোরের গাইদঘাট গ্রামে বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের কাজ শুরু হয়। যে কারণে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের মডেল এলাকা হিসেবে যশোর জেলা সারা বিশ্বের মধ্যে স্থান পায়। বৃহত্তর যশোর অঞ্চল সারাদেশের মধ্যে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের মডেল এলাকা হিসেবে সারা বিশ্বের মধ্যে স্থান পাওয়াই এই কৃষক সংগঠক আইয়ূব হোসেন ও তার সহযোগী বন্ধু সাংবাদিক লক্ষ্মণ চন্দ্র মন্ডলকে ২০১০ সালে ঢাকার ফার্মগেটে গণপ্রজাতস্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস মিলনায়তনে তখনকার কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী পুরস্কৃত করেছিলেন। তার জীবদ্দশায় এই কেন্দ্রের উদ্যোগে তখন এই এলাকায় দেশের সকল স্বনামধন্য কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষিবিদ ও অগনিত বিদেশী বিজ্ঞানীদের পদচারণা ঘটেছিল। সেই বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের মডেলকে সামনে নিয়েই এখন সারা দেশেই চলছে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের আন্দোলন।

ডিজিটাল আন্দোলনের সুচনাপর্বে গণপ্রজাতস্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস সর্বপ্রথম সারা দেশে যে কয়টি অঞ্চলে ‘কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র’ স্থাপন করেছিলেন, তার মধ্যে গাইদঘাট কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্রের ‘কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রটি’ ছিল অন্যতম। তবে আইয়ূব হোসেনের মৃত্যুর পর এই ‘কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রটি’ একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। বর্তমান গণপ্রজাতস্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় পুনরায় কিছুটা জীবন ফিরে পাচ্ছে। 

কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্রটির শুরু থেকে যে ঘরটিতে যাবতীয় কর্মকান্ড সম্পাদন হতো, যেখানে সকল দেশী-বিদেশী বিজ্ঞানীদের নিয়ে কৃষক-কৃষানীদের প্রশিক্ষণ দেয়াসহ সব ধরনের কর্মকান্ড চালানো হতো সেই ঘরটি বিগত আম্পান ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে গেলেও আজ অবধি তা সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ঘরটিতে সংরক্ষিত এ যাবৎ কালের সব ধরনের মুল্যবান কাপজপত্র ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরে বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরটিতে সংরক্ষিত বিভিন্ন ধরনের পোষ্টার, ফেস্টুন, গবেষনামুলক বই পুস্তক ও সবধরনের আসবাবপত্র ভিজে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। কেন্দ্রের সভাপতি আইয়ুব হোসেনের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সহযোগী বন্ধু লক্ষ্মণ চন্দ্র মন্ডল ছিলেন ওই কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক। তিনি নিজেই কেন্দ্রের নামে জমিদানসহ ঘরটি নিজ খরচে গড়ে দিয়েছিলেন। আইয়ুব হোসেনের মৃত্যুর পর এলাকার কিছু কৃষক নেতাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে, সেই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় কৃষক সংগঠক ও সাংবাদিক লক্ষ্মণ চন্দ্র মন্ডলকে। তিনি বিগত বছর দুই ধরে বিভিন্ন রোগে অসুস্থ হয়ে বর্তমান অর্থকষ্টে আছেন। যে কারনে কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন কেন্দ্রের ওই ঘরটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।