img

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

মোট আক্রান্ত২৪৯,৬৫১

সুস্থ১৪৩,৮২৪

মৃত্যু৩,৩০৬

বিশ্বে করোনাভাইরাস

মোট আক্রান্ত১৯,২৩৪,৩৫১

সুস্থ১২,৩৪৫,৩৭৯

মৃত্যু৭১৬,৪৭১

নড়াইল জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী শহিদুলের দুর্নীতির খতিয়ান-১

image

নিজস্ব প্রতিবেদক : নড়াইল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর শহিদুল ইসলামের বিরূদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে। স্বল্প বেতনের সামান্য একজন কেরানী অল্পদিন চাকুরী করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অতি দরিদ্র পরিবারের সন্তান শহিদুল ঘুষের টাকায় উচ্চাভিলাষী জীবন যাপন করেন। টাকা ছাড়া কোন কথাই বলেন না এ কেরানী। কারনে অকারনে অফিসে আগতদের নিকট হতে অর্থ হাতিয়ে নেন। ঘুষ নেয়া তার নেশায় পরিণত হয়েছে। টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না। মাত্র ৯ বছরে চাকুরী করে আঙ্গুল ফুলে ফেপে উঠেছে। শত অভিযোগের পরও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তার বিরূদ্ধে দূর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক), মহা-পরিদর্শক নিবন্ধন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। জানা গেছে, নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা আজাদ মিয়ার ছেলে শহিদুল ইসলাম। ৬ ভাই ২ বোনের মধ্যে শহিদুল সবার ছোট। মাদরাসায় লেখাপড়ার সূত্র ধরেই ছাত্রজীবনে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকলেও চাকুরীতে সুপারিশ করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। লিখিত প্রত্যায়ন পত্র প্রদানও করেন। নতুন করে পদন্নতির জন্যও আওয়ামী লীগের প্রত্যায়ন পত্র জমা দিয়েছেন। শহিদুল ইসলাম ২০১১ সালে নড়াইল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগদান করেন। আর যে ব্যক্তির মাধ্যমে চাকুরী হলো সে পরিবারে সদস্য লোহাগড়া উপজেলার পাচুড়িয়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের একটি চেক চুরি করে এনে নড়াইল জজকোর্টে মামলা ঠুকে দেন। যা বিভিন্ন সময়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে শালিস মিমাংসা হয়। ৮ থেকে ৯ বছর চাকুরী করে স্বপ্নে পাওয়া আলাউদ্দিনের আশ্চর্য়্য প্রদীপ হাতে পেয়ে যান। তাই তো কয়েক বছরের মধ্যেই ভাগ্য খুলে ফুলে ফেঁপে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যান। স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি কাউকেই তোয়াক্কা করেন না । অফিসের গোপনীয় বালাম বইয়ে টেম্পারিং(কাটা-ছেড়া) করে অন্যের জমি দখল, ভূয়া স্মারক দিয়ে নকল নবিশ নিয়োগসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে লুটে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যায়ে দূর্গাপুর এলাকায় তৈরী করেছেন আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। বিভিন্ন মাঠে ক্রয় করেছেন কোটি টাকার জমি। যা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কম মূল্য দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে রয়েছে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর শহিদুল ইসলাম মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বালাম বইয়ের দাগ, খতিয়ান, জমির পরিমান টেম্পারিং (কাটা-ছেড়া) করে যাচ্ছে। অফিসের রেকর্ড কিপার, রেকর্ড পিয়ন ভয়ে মুখ খুলতে পারে না। টাকার বিনিময়ে যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন। নিজে  অন্যের সম্পত্তি আত্তসাৎ করার জন্য নড়াইল সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে গত ০৪/০৪/২০১৭ ইং তারিখে ১০ নং মামলার রজু করে নড়াইল সদর সাব- রেজিস্ট্রি অফিসে গত ০৪/০৬/১৯৭৬ ইং তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত ৩৩০৪ নং কবলা দলিলের বালাম বই টেম্পারিং করেন। যাহা বালাম নং ৫২ পৃষ্ঠা নং ১২১ থেকে ১২৯ পর্যন্তু। জমির পরিমান ২৫ শতকের স্থলে ৫০ শতক লিখে উক্ত জমি নিজ নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। এ মামলার বিবাদী করা হয় ময়না বেগমকে। বিবাদীরা মূল দলিল আদালতে হাজির করে চ্যালেঞ্জ করেন এবং উক্ত বালাম বই আদালতে হাজির করার জন্য আবেদন করেন। অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে নিজের চাকুরী বাচানোর জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর রজিবুল ইসলামসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করেন। এ ঘটনায় অফিস কর্তৃপক্ষ জেনেও ভয়ে তার বিরূদ্ধে কোনোরূপ পদক্ষেপ নেয়নি। দূর্ণীতিবাজ শহিদুল ইসলাম মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দুইজন নকল নবিশকে অবৈধ নিয়োগ দিয়ে তাদের দ্বারা বালাম বইতে দলিল নকল করিয়ে বিল করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। গত ০৩/১২/২০১৮ ইং তারিখে আইজিআর অফিসের ১৭২২৯ নং স্মারক আদেশে (১) সৈয়দা নুর জাহান পিং সৈয়দ ইদ্রিস আলী (২) তারমিন খাতুন পিং জবেদ আলী (৩) কেয়া পারভীন পিং মুন্সি ফজলুল হক (৪) মোঃ ওবায়দুল ইসলাম পিং- আয়ুব হোসেন মোল্যা এই ৪ জনকে নকল নবিশ পদে নিয়োগ দেয়ার আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু সে নিজেই জেলা রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর নকল করে উক্ত আদেশের পূর্বেই নভেম্বর ২০১৮ মাসের প্রথম সপ্তাহে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে দুইজন (১) সৈয়দা নুরজাহান ও (২) তারমিন খাতুনকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পূর্ণ অবৈধ নিয়োগ দেন। সূত্র জানায় তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার আ.ব.ম খায়রুজ্জামান নড়াইলে জেলা রেজিস্ট্রার হিসাবে যোগদান করেন গত ১১/১১/২০১৮ইং তারিখে। আইজিআর অফিসের স্মারকাদেশ ০৩/১২/১৮ ইং তারিখের। তাদের নিয়োগ পত্রে জেলা রেজিস্ট্রার আ.ব.ম খায়রুজ্জামানের স্বাক্ষর থাকতে হবে। কিন্তু তাদের নিয়োগ পত্রে অন্য জেলা রেজিস্ট্রার এর নাম ব্যবহার করা হয়েছে। শহিদুল ইসলাম তার অবৈধ উপার্জনের টাকা দিয়ে নামে-বেনামে এক থেকে দেড় কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছেন। যা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তল্লাশী করলে জানা যাবে। নিজ গ্রাম দুর্গাপুরে, একটি দ্বিতল বিশিষ্টি আলীশান বাড়ি নির্মান করিয়াছেন। যাহাতে আনুমানিক ২ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। অভিনব এই দুর্নীতিবাজ দুর্নীতি হতে নিজেকে বাঁচাতে ইসলামী ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংক হতে কয়েক লাখ টাকা লোন করে বাড়ির সামনে একটি সাইনবোর্ড দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে সকল প্রকার অবৈধ লেন-দেন তার হাত দিয়েই হয়ে থাকে। ইতোপূর্বে নড়াইল জেলাধীন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩০/৪০ জন দলিল লেখক ও অসংখ্য নকল নবিশ নিয়োগ পেয়েছে। সে তার নিজের প্রভাব দেখিয়ে এদের কাছ থেকে প্রায় কোাট টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দলিল লেখকরা অভিযোগ করেন তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে নানা ভাবে নাজেহাল করেন। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির হুমকি দেন। প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করে অনেক কর্মচারীকে বদলি ও হয়রানী করেছেন। অনেক দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিলসহ হয়রানী করেছেন। গুরুত্বপূর্ন দপ্তরের দায়িত্বে থাকায় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড পত্র রাতের অন্ধকারে বাহিরে নিয়ে কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে যোগ সাজোশে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য পূর্বের তারিখে স্মারক ব্যবহার করে হয়রানী করে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে ভিন্ন জেলায় আদালতে মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমা দায়ের করে হয়রানী করে। অফিস রুমে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও নিজ ক্ষমতা বলে সম্পূর্ন বেআইনীভাবে সরকারি অফিসের ফাকা জায়গা নিজ ইচ্ছা মত কাঁচের ঘর তৈরী করে ঘুষ দুর্নীতির দরবার কক্ষ তৈরি করেছেন। সেখানে বসে ইচ্ছা মত জেলার সকল অফিসের কর্মচারী/ দলিল লেখক ও নিকাহ রেজিস্ট্রারদের সঙ্গে অবৈধ ঘুষ দূর্ণীতির লেনদেন করে থাকে।