img

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

মোট আক্রান্ত১৫৩,২৭৭

সুস্থ৬৬,৪৪২

মৃত্যু১,৯২৬

বিশ্বে করোনাভাইরাস

মোট আক্রান্ত১০,৮২৪,২৫৮

সুস্থ৬,০৪৫,২৬৮

মৃত্যু৫১৯,৩১৩

অর্থই দিন মজুর মা-বাবার স্বপ্ন পুরণে বাঁধা

image

নিজস্ব প্রতিবেদক : দিন মজুর বাবার স্বপ্ন পুরনে, এক এক করে বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাঘারপাড়ার প্রভা গোলদার। সে এ বছর বাক্ড়ী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ-প্লাস পেয়েছে। প্রভা গোলদার যশোর বাঘারপাড়া উপজেলার ১১খান অঞ্চলের কমরাপুর গ্রামের অসিম গোলদারের মেয়ে। বিগত পরীক্ষাগুলোতেও সাফল্য দেখিয়েছে এ মেধাবী। ২০১৪ সালে পিএসসি তে এ-প্লাস সহ বৃত্তি লাভ এবং ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায়ও এ-প্লাস পাওয়ার কৃতিত্ব দেখায়।

অর্থের অভাবে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের কছে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ ছিলো না তার। মা-বাবা ভাইদের নিয়ে এক ঘরে বসবাসের কারনে পড়ার পরিবেশটাও ঠিক মত নেই। স্কুলের শ্রেণী শিক্ষকের ক্লাস ও সামান্য টাকায় ব্যাচে পড়ে এ সাফল্য অর্জন করে মেধাবী মেয়ে প্রভা। অদম্য ইচ্ছা শক্তিই যার একমাত্র সম্পদ। ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার। প্রভার মতে, এ সাফল্যের পেছনে মা-বাবা সহ স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ, বিশেষ করে গনিতের স্যার দিপংকর বিশ্বাসের অবদান অতুলনীয়। আমি ওদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। 

 প্রভা, দিন মজুর বাবার তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। ছয় শতাংশ জমির উপর বসত বাড়ি ও এক বিঘার মত ধানী জমি ছাড়া সহায় সম্পদ বলতে আর কিছু নেই এই অসহায় পরিবারের। তারপরও তিন সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করতে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে চলেছেন নিরলস ভাবে। নিজেদের জমির ফসলে তাদের পাঁচ সদস্যের পেটে খাবার জুটলেও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর মত অর্থ থাকে না। তাই প্রতিদিনই এই স্বপ্নবাজ মা-বাবা কে ছুটতে হয় অন্যের জমিতে দিন মজুরের কাজে। এভাবে কষ্ট করে বড় ছেলে অমিত গোলদারকে ২০১৬ সালে যশোরের এমএম কলেজ থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাশ করিয়েছেন তারা। এখন সে বেকার। ছোট ছেলে অন্তু তুলারামপুর কলেজে কারিগরি শাখায় উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী।

মা বাসন্তী গোলদার এ প্রতিদেককে জানান, বিয়ের পর থেকেই অভাবের সাথে যুদ্ধ করতে করতে এ পর্যন্ত আসা। সন্তানদের লোখাপড়া শেখানোর জন্য  কখনে নিজের জমি কখনো অন্যের জমিতে কাজ করি। এখন ছোট মেয়েটাকে নিয়ে আমাদের অনেক আশা। এ সময় তিনি আরও বলেন, জানি ভালো কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে অনেক খরচ, যেখানে অনেক বিষয়ে প্রাইভেট পড়া দরকার। কিন্তু ইউটেরাস অপারেশনের পর শরীরটাও সব সময় ভালো থাকে না। জানিনা অর্থের কাছেই শেষ পর্যন্ত স্বপ্নগুলো অধরাই থেকে যায় কি-না। 

বাবা অসিম গোলদার (৬২) বলেন, মেয়েটা যেভাবে রেজাল্ট করছে তাতে আমি গর্বীত। ওর জন্য মনের জোর বেড়ে গেছে, প্রতিদিন ৫শত টাকা আয় করার লক্ষ্যে দিন শুরু করি। তাই এক এক দিন দুই জনের জমিতেও দিন মজুরের কাজ করতে হয়। কিন্তু বয়সের কারনে জানিনা শেষ পর্যন্ত পারবো কিনা। তবে জমি-জমা যা আছে তা বিক্রী করে হলেও ওকে পড়াবো। বাদ বাকী সবার আশীর্বাদ ও সৃষ্টিকর্তা ভরসা।