img

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

মোট আক্রান্ত১৬২,৪১৭

সুস্থ৭২,৬২৫

মৃত্যু২,০৫২

বিশ্বে করোনাভাইরাস

মোট আক্রান্ত১১,৪৯৬,৬৬৩

সুস্থ৬,৫১৩,৪০৩

মৃত্যু৫৩৫,৩৭৮

ল্যান্ড লর্ড অফ স্টেট রাজবাড়ি

image

রাজা সূর্যকুমার : লক্ষীকোলের রাজার বাড়ির নাম মানুষের মুখে মুখে ছিল এক সময়।বর্তমান রাজবাড়ি শহর থেকে এক কিলোমিটার দূরে লোকোশেডের উত্তর পাশ দিয়ে এতিমখানার পশ্চিম হয়ে যে রাস্তা গিয়েছে তার সামান্য উত্তরে ছিল রাজবাড়িটা। রাজা সূর্যকুমার ছিলেন জমিদার দীগিন্দ্র প্রসাদের দত্তক পুত্র। তার ব্যক্তিত্ব, জনহিতকর কাজ, শিক্ষানুরাগ এবং প্রজাপ্রেমের জন্য ১৮৮৫ সালে করোনোশনের মাধ্যমে 'রাজা'  উপাধি পান।তার পিতামহ  প্রভুরাম ছিলেন নবাব আলীবর্দি খাঁর নবাব স্টেটের পদস্থ কর্মচারী। তিনি ১৮৬০ দশকের মাঝামাঝি বরিশালের গাভা নিবাসি উমাচরন ঘোষ দস্তিদারের কন্যা ক্ষীরোদ রানীকে বিবাহ করেন। ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে কোন সন্তান জন্ম নেয়নি প্রভুরাম-ক্ষীরোদ রানীর দম্পত্তির কোল জুড়ে। রানীর পরামর্শে প্রভুরাম পরবর্তীতে ভবদিয়া নিবাসী কুঁচবিহারের মোক্তার অভয়চরন মজুমদারের কন্যা শরৎ সুন্দরীকে বিবাহ করেন। এ ঘরেও কোন সন্তাদি জন্মগ্রহণ করেনি। প্রায় ৬০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল রাজার বাড়ি। তখনকার দিনে লক্ষীকোল এস্টেটের বার্ষিক আয় ছিল দেড় লক্ষ টাকা।সূর্যনগর রেল স্টেশন তিনি প্রতিষ্ঠা করেন।রাজার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ বলতে বর্তমানে কিছু নেই, ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বটবৃক্ষ যেখানে ঐতিহ্যবাহি মেলা বসত। ১৮৮৮ সালে তিনি আর এস কে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একটি হাসপাতাল নির্মান করেছিলেন যেটা এখন নেই, জায়গাটা ছিল বর্তমান এসপি ও সিভিল সার্জনের বাসার স্থান।

জমিদার গিরীজা শংকর মজুমদার : মুর্শিদাবাদ প্রভিন্সিয়াল কোর্টের  মিরমুন্সি জয়শঙ্কর মজুমদার ছিলেন বানিবহের জমিদার।তার পুত্র গিরীজা শংকর মজুমদার ছিলেন কলকাতা হাইকোর্ট এর উকিল।১৮৯২ সালে গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল তিনি প্রতিষ্ঠা করেন যেটা এখন রাজবাড়ি জেলা স্কুল নামে পরিচিত।বাণিবহ রাজবাড়ীর প্রসিদ্ধ স্থান অনেক আগে থেকেই, ঘন বসতিপূর্ন এলাকা ছিল। ১২৩২ সালে  পুস্করে (বায়ু দূষন জনিত মহামারি) গ্রামটি উজাড় হয়ে যায়।

খান বাহাদুর আলিমুজ্জামান চৌধুরি: বেলগাছি এস্টেটের কৃতিপুরুষ ফয়েজ বক্সের ছেলে খান বাহাদুর আলিমুজ্জামান চৌধুরী তৎকালীন ফরিদপুর জেলার তৃতীয় গ্রাজুয়েট ছিলেন। ১৯২৩ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৯৩৫ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।বৃটিশ সরকার তাকে CIE (Companion of Indian Emoerior) উপাধি দেয়। তার ভাই ইউসুফ হোসেন চৌধুরি (মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদ) বৃটিশ ভারতে এমএনএ নির্বাচিত হন।

জমিদার মহিম চন্দ্র সাহা: বহরপুর বাজারের নিকটে পশ্চিমে ১৫০*৪২ বর্গফুটের প্রশস্ত দোতলা দক্ষিনমুখি প্রাসাদ তার চিহ্ন বহন করছে। প্রায় ৩ একর জায়গায় আরো ৫টা প্রকান্ড দালান, প্রকান্ড পুকুর, বাগানসহ জমিদার বাড়িটা প্রাচীন ঐতিহ্য। উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি মহিম সাহের জমিদারি বিস্তীর্ণ ছিল রাধাগঞ্জের বিলসহ ১৬টা গ্রাম।তার নাতির ছেলে প্রানকৃষন্ন সাহা বর্তমানে জেলা স্কুলের শিক্ষক।

মুকুন্দরাম রায় ভূইয়া:ভূষনার জমিদার ছিলেন মুকুন্দরাম। ভূষনা হল বর্তমান মধুখালি বালিয়াকান্দিসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের অংশ বিশেষ। বার ভূইয়ার একজন এই মুকুন্দরাম রায়।স¤্রাট আকবরের সেনাপতি মোরাদ খানের ছেলেদের কৌশলে হত্যা করে ভূষনাধিপতি মুকুন্দরাম সমগ্র ফতেহাবাদ অধিকার করেন।মোরাদ খান খানখানাপুর এলাকায় বসতি গড়েছিলেন।

সংগ্রাম সাহ: মোঘল শাসন কালে সেনাপতি সংগ্রম সাহের সাথে রাজবাড়ির অনেক স্মৃতি বিজড়িত। লালগোলাতে তার দুর্গ ছিল, বানিবহ গ্রামে বিবাহ করেছিলেন। বানিবহের তলাপাত্রের দিঘি এখন আছে, মথুরাপুরের দেওল তিনি নির্মান করেন।

রাজা সীতারাম: বিখ্যাত রাজা হরিশ্চন্দ্রের ছেলে সীতারাম।১৬৫৮ সালে রানি দয়াময়ী এর গর্ভে সিতারাম জন্ম গ্রহন করেন।পাংশার কালিকাপুরে তার দুর্গ আছে এখানে মেলা বসে এখনো। সংগ্রাম সাহের মৃত্যুর পর ভূষনার দখলে আসে রাজা সীতারামের। তার প্রধান দুর্গ ও পরগনা ছিল মধুমতি তীরে মুহাম্মদপুর (মাগুরা)।বালিয়াকান্দি নলিয়া জোড় মন্দির তিনি স্থাপন করেন।

নাটোর রাজবংশ: বেলগাছি স্টেশনের নিকট হারোয়া গ্রামে মদন মোহন মন্দির নাটোর রাজ স্টেটের অন্তর্গত ছিল।সীতারামের মৃত্যুর পর কিছু অংশ নাটোর রাজ্যের অর্ন্তভুক্ত হয়।মদন মোহন জিউ নাটোর রাজা রাম জীবনের নামে রানি ভবানি উৎসর্গ করেন।বেলগাছিতে সানমঞ্চ ও দোলমঞ্চ আছে যেখানে প্রতি বছর রামজীবনের নামে রথের মেলা বসে।

চানকুঠি মুর্শিদাবাদ: রাজবাড়ি রেল স্টেশনের পশ্চিমে ড্রাই আইস ফ্যাক্টরিতে ইঞ্জিনিয়ার এস ইউ খান (অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাইদ উদ্দিন খান) ১৯৫৮ সালে যোগ দেন। রাজবাড়ি কলেজ গেট ফলকে তার নাম আছে, তিনি গেটের নক্সা করেন। ডিসির বাসার পাশে চিল্ড্রেন পার্কের তনি নক্সা করেন।তার ছেলে দাদশি চেয়ারম্যান আম বাবু (জিন্নাহ খান)। তাদের পূর্ব পুরুষ মুর্শিদাবাদ চান কুঠি ছিল।)

রতনদিয়া: কালুখালি রেল স্টেশনের সন্নিকটে রতনদিয়া। নড়াইলের জমিদার রাম রতন এর নামে জায়গার নাম হয়।কবি বিহারি লাল গোস্বামী রতনদিয়া থাকতেন ১৯১৭ সালে। এখানে নীলকুঠি ছিল।পাইকপাড়াতে জমিদারের কাচারি ছিল। পরবর্তিতে মুসলিম জমিদার ছিলেন খান বাহাদুর ইউসুফ হোসেন চৌধুরি। 

গোয়ালিশ ল্যান্ড: বর্তমান গোয়ালন্দঘাট আগে ছিল উড়াকান্দা (পূর্ব নাম তেনাপচা) হতে উত্তরে রাজগঞ্জ। পদ্মার ভাঙ্গা গড়ায় রাজগঞ্জ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পর্তুগীজ বনিকেরা রাজগঞ্জকে বলত গোয়ালিশ ল্যান্ড বা মজার খাবারের দেশ।গোয়ালিশ পর্তুগিজ শব্দ যার অর্থ অল্পজালের সিদ্ধ মাংস বা মাছের ফালি।ভাষার পরিবর্তনে গোয়ালিশ ল্যান্ড হয়ে যায় গোয়াল্যান্ডু বা গোয়ালন্দ। 

পুরাতন নাম:

নশরতশাহি=পাংশা

মহিমশাহি=বালিয়াকান্দি

নসিবশাহি=রাজবাড়ি উপজেলা

দ্বীপ ও নদী সংলগ্ন এলাকাকে দি বা দিয়ারা বলে। যেমন-ভবদিয়া, পাটুরিয়া, রতনদিয়া, ভান্ডারিয়া।

প্রবাহমান নদীর কিনার, বাক এবং বিল হাওড়ের পাশ্বস্থ এলাকাকে কান্দা বা কান্দি বলে। যেমন- উড়াকান্দা, আড়কান্দি, বালিয়াকান্দি।

পুর পরিচয়ে বেশিরভাগ গ্রাম হল পুরাতন  বসতি। যেমন-বিনোদপুর,ভবানিপুর,আলিপুর, খানখানাপুর, কল্যানপুর,রামকান্তপুর, সুলতানপুর,গংগাপ্রসাদপুর।

(চলবে ......)