img

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

মোট আক্রান্ত১৬২,৪১৭

সুস্থ৭২,৬২৫

মৃত্যু২,০৫২

বিশ্বে করোনাভাইরাস

মোট আক্রান্ত১১,৪৯২,২৬২

সুস্থ৬,৫০৬,৫৭৮

মৃত্যু৫৩৫,৩৪৩

রাজবাড়ী জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য: পর্ব-০১

image

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সম্রাট আকবরের রাজস্ব মন্ত্রী টোডরমল যে ৩৩ ভাগে রাজস্ব নিতেন সেই সময়ে রাজবাড়ী জেলা মাহমুদাবাদ সরকারের অর্ন্তভুক্ত ছিল।চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকালে ১৭৯৩ সালে রাজবাড়ী যশোহর জেলার অর্ন্তভুক্ত হয়েছিল। ১৮১১ সালে চন্দনা নদীর পশ্চিমাংশ অর্থাৎ পাংশা ও বালিয়াকান্দি উপজেলার অংশবিশেষ নদীয়া জেলার সাথে সংযুক্ত থাকে।পরবর্তীতে কুষ্টিয়া জেলা গঠন হলে এই অংশটি কুষ্টিয়ার সাথে সংযুক্ত হয়।১৮৭০ সালে চন্দনা নদীর পূর্বাংশ তথা গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ী উপজেলা এবং পাংশা-বালিয়াকান্দির অংশ বিশেষ ফরিদপুর জেলার অন্তর্ভূক্ত হয়।এ সময় চন্দনা নদীর পশ্চিমাংশ বিশেষ করে পাংশা উপজেলা পাবনা জেলার সাথে সংযুক্ত হয়।১৮৭১ সালে ফরিদপুর জেলা পুন:গঠিত হলে গোয়ালন্দ মহকুমা প্রতিষ্ঠা পায়। তখন বেলগাছি গোয়ালন্দ মহকুমার একটা থানা ছিল এবং রাজবাড়ী নামে কিছুই ছিল না । তবে লক্ষীকোল রাজা সূর্যকুমার এবং বানিবহ জমিদার গিরীজাশংকর মজুমদার বর্তমান রাজবাড়ী পৌর এলাকার সীমানার মধ্যে নানা স্থাপনা গড়ে উন্নত জনপদে পরিণত করেন। বিনোদপুর সংলগ্ন বাজার গড়ে উঠে যেটাকে রাজবাড়ী বাজারও বলা হত। নদী ভাঙ্গনের ফলে ১৮৭৫ হতে ১৮৮০ সালের মাঝামাঝি সময়ে গোয়ালন্দ মহকুমার অফিস স্থাপনা রাজবাড়ীতে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়। ১৮৯২ সালে জমিদার গিরীজাশংকর মজুমদার গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন যেটা আজ রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (জেলা স্কুল) নামে পরিচিত। রাজা সূর্যকুমার ১৮৮৮ সালে অবশ্য আর এস কে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।১৯১৩ সালে রাজবাড়ী ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হয় যা ১৯২৩ সালে মিউনিসিপালিটি রুপে প্রতিষ্ঠা পায়। ১৯৩৭ সালে উপমহাদেশ এর একমাত্র ড্রাই আইস ফ্যাক্টরী প্রতিষ্ঠিত হয় রাজবাড়ী সরকারি কলেজের পশ্চিমে।১৯৫১ সালে বিনোদপুরে বিদ্যুত পাওয়ার প্লান্ট স্থাপিত হয়।১৯৮৪ সালের পহেলা মার্চ গোয়ালন্দ মহকুমাকে রাজবাড়ী জেলা হিসেবে ঘোষনা করা হয়। পদ্মা-যমুনার মিলনস্থল গোয়ালন্দ হতে আসাম মেল ট্রেন চলত, স্টিমারে ঢাকা, চাঁদপুর, নারায়নগঞ্জ, বরিশাল যাওয়া যেত। গোয়ালন্দ ছিল Gate way of Bengal.

জেলার কিছু ঐতিহ্য: শাহবাগ জাদুঘরে মূলঘরের জমিদারের পালংক এখনো রয়েছে। ঐতিহাসিক চাদ সওদাগরের সপ্তডিঙ্গা বেলগাছি হড়াই নদীতে ডুবে যায়, জায়গাটা এখন চাদ সওদাগরের ঢিবি নামে পরিচিত।পর্যটক টাভার্নিয়ারের বর্ণনা অনুসারে চর্তুদশ শতকে আড়কান্দিতে জাহাজ নির্মান কেন্দ্র ছিল। সুলতানী আমলে পঞ্চদশ শতাব্দীতে মাহুয়ান বাংলাদেশে আসেন, তার মতে পাংশা থানার যশাই ইউনিয়নে উৎকৃষ্ট মানের কাগজ উৎপাদন হত।এই কাগজি (উপাধি) পরিবার এখনো কিছু আছে উদয়পুর ও পাটকিয়াবাড়িতে। পাচুরিয়ার মুকুন্দিয়া ১৪২২ সালে জমিদার দ্বারকানাথ সাহা চৌধুরি এর ছেলে সুদৃশ্য মঠ নির্মাণ করেন। ১৯১৪ সালে শিল্পকলা একাডেমীর পাশে ঊডহেড পাবলি¬ক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৪৮০ সালের দিকে হযরত শাহ পাহলেয়ান ইসলাম প্রচারের জন্য বালিয়াকান্দি সেকাড়া আসেন। এখানেই তার মাজার।সাহিত্যিক মীর মোশারফ হোসেন, কাজী মোতাহার হোসেন, কাজী আব্দুল ওদুদ,শিল্পী মনসুর উল করিম, শিল্পী কাংগালিনী সুফিয়া, চিত্রনায়িকা রোজিনা, অস্কার বিজয়ী নাফিজ বিন জাফর, অলিম্পিক তারকা ডলি  প্রমুখ রাজবাড়ীর কৃতি সন্তান। জেলার প্রচলিত লোকজ উৎসবের মাঝে ঢেঁকিনাচ, ছোকরানাচ, ধোয়াগান, পাচুরিয়া বারুনি মেলা, নলিয়া হরি ঠাকুরের মেলা, লক্ষীকোল বুড়ির মেলা,জারিগান, ঘেটু গান উল্লে¬খযোগ্য। 

 প্রবাদ প্রবচন:

"নামে খায় বেলগাছির গুড়"

 ইলিশ মাছের তিরিশ কাটা

বোয়াল মাছের দাড়ি

টিক্কাখান ভিক্ষা চায়

গোয়ালন্দের বাড়ি।

রাজবাড়ী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্ত হয় ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর।মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (অব:) আবু ওসমান চৌধুরীর জন্ম চাঁদপুর হলেও তার পিতার স্থায়ী বসতির কারণে খানখানাপুর থাকতেন।১৮৭১ সালে উপমহাদেশের প্রথম রেল চালু হলে গোয়ালন্দ হতে কলকাতা ট্রেন চালু হয়। এক সময় মুলত রেল জেলা হিসেবে পরিচিত  ছিল রাজবাড়ী। কালের বির্বতনে আজ অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এগিয়ে যাক প্রানের রাজবাড়ী। 

(চলবে ......)