img

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

মোট আক্রান্ত১৫৩,২৭৭

সুস্থ৬৬,৪৪২

মৃত্যু১,৯২৬

বিশ্বে করোনাভাইরাস

মোট আক্রান্ত১০,৮২৯,১০৪

সুস্থ৬,০৪৮,১৯৭

মৃত্যু৫১৯,৩৯৭

মানবতাই যার কাছে বড়, সেইতো মাশরাফি

image

নিজস্ব প্রতিবেদক : শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও একজন মাশরাফি আছেন। সেই মাশরাফি কোনো খ্যাতিমান বোলার কিংবা দেশসেরা অধিনায়ক নন, স্রেফ রক্তে মাংসে গড়া একজন মানুষ। মানবতাই যার কাছে বড়, বন্ধুবাৎসল্য যার ধমনীতে। বিশেষ এই দু'টি গুণই তাকে নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়, এনে দিয়েছে কিংবদন্তীর মর্যাদা। নিঃশ্বাস দূরত্বে দেখা সেই কিংবদন্তীর মানবীয় গুণের কথা কী নিপুনভাবেই না তুলে ধরলেন সতীর্থ তামিম ইকবাল!

কমবেশি আমরা সবাই জানি যে, কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলকেই টিম হোটেলে থাকতে হয়। এবং সেই হোটেলে অধিনায়কের জন্য বরাদ্দ থাকে বিশাল এক রুম (স্যুট)। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশে কিংবা দেশের বাইরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা বহুপাক্ষিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকেও টিম হোটেল থাকতে হয়। সেই হোটেলে দলের অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি পেতেন ঢাউস আকারের কক্ষ। মজার ব্যাপার হলো এই যে সেই কক্ষটি কোনোদিনও বন্ধ থাকেনি। ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকত।


থাকত বললে হয়ত ভুল হবে মাশরাফি নিজেই খোলা রাখতেন। পেছনে একটি ভাবনাই কাজ করত, যখন যার খুশি এসে আড্ডা দেবে, হৈ চৈ করবে। ১৩ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তামিম ইকবাল যতদিন মাশরাফিকে অধিনায়ক হিসেবে পেয়েছেন ততদিন এমনই দেখেছেন লাল সবুজের ক্রিকেটের দিন বদলের এই দলপতিকে।

সোমবার (৪ মে) রাতে নিজের ফেইসবুক পেইজে মাশরাফির সঙ্গে লাইভ আড্ডায় সেই মধুর স্মৃতি দেশ সেরা এই ব্যাটসম্যান স্মরণ করলেন সশ্রদ্ধ চিত্তে।




‘সাধারণত আমরা যখন কোনো সিরিজের মধ্যে থাকি, দেশে বা বিদেশে তখন আমাদের সবাইকেই আলাদা রুম দেওয়া হয়। তবে অধিনায়করা একটা বড় (স্যুট) রুম পায়। মাশরাফি বিন মুর্ত্তজার সেই রুম খোলা থাকত ২৪ ঘণ্টা। কোনো দিন কখনোই দরজা লাগানো হত না। যে কোনো ব্যক্তি সেখানে যেতে পারে। আমরা ওখানে যাই, আড্ডা দিই। বিভিন্ন খেলাধুলা করি। সারাদিনই এমন চলে, সেখানে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থাও থাকে। আমরা দুঃখ, সুখ সবকিছু ভাগাভাগি করতাম সেখানে গিয়ে। আমি চাইবো এই জিনিসটা এখনই বন্ধ না হয়ে যাক মাশরাফি ভাই। আমি চাই আপনি আরও কিছুদিন খেলবেন। এটা বন্ধ না হোক।’


আড্ডায় আরো অনেক স্মৃতি চারণ করেছেন এই দুই সিনিয়র টাইগার। তার মধ্যে যেটি প্রনিধানযোগ্য সেটি হলো, ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ। যেখানে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি (৯৫ রান) বাদ দিলে বাকি পাঁচটিতেই নিজেরে ছায়া হয়ে ছিলেন তামিম। টুর্নামেন্টের এক পর্যায়ে নিজের আবেগ আর সংবরণ করতে পারেননি দেশ সেরা এই ওপেনার। অধিনায়কের কাছে গিয়ে কেঁদে ফেললেন। তখন একেবারে বাবার মমতায় তামিমকে আগলে রেখেছিলেন ম্যাশ। আর তার কাঁধে ভরসা রেখেছিলেন।


অধিনায়কের সেই আস্থার প্রতিদান তামিম দেশে ফিরেই দিয়েছে তামিম। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফরে ঢাকায় করেছেন ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি ( ১৩২* ও ১১৬)। শেষ ওয়ানডেতেও করেছেন ফিফটি (৬৪)। তামিমের ব্যাটে চড়ে চ্যাপ্টা হয়ে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফিরে গেল পাকিস্তান। মাশরাফির স্মৃতিতে যা আজও জ্বলজ্বলে। এভাবেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর তামিমে ভরসা করেছেন মাশরাফি। তামিমও অধিনায়কের সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েই আজ দেশ সেরা রান সংগ্রাহক।